প্রয়োজন পূরণ ও দুশ্চিন্তা দূর করার নামাজপড়ালেখা-পরীক্ষা শুরু করতে কোনো দোয়া আছে কি?যেসব মানুষের জন্য আল্লাহর সাহায্য অবধারিতঋণের টাকায় হজ করা যাবে কি?কবরে মৃত ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা শুরু হয় কখন?
No icon

মুসল্লিদের জন্য জুমা পড়ার শর্ত ও হুকুম কী?

ইয়ামুল জুমা তথা শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ার দিন। দিনটি মুসলমানদের সাপ্তাহিক ইবাদতের শ্রেষ্ঠ দিন। কিছু হুকুম ও শর্ত মেনে জুমার নামাজ আদায় করতে হয়। জুমা পড়ার জন্য হুকুম ও শর্তগুলো কী?

সাপ্তাহিক ফজিলতপূর্ণ ফরজ নামাজ জুমা। শুক্রবার জোহরের সময় মুসলিম উম্মাহর সম্মিলিত অংশগ্রহষে এ নামাজ আদায় করা হয় বলে তাকে জুমা বলা হয়। জুমা নামাজ আদায়ে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ হুকুম ও শর্ত। যে শর্ত ও হুকুম পাওয়া গেলে জুমা আদায় করতে হয়, তা জানা সবার জন্যই জরুরি। তাহলো-

জুমার হুকুম ১. জুমা নামাজ দুই রাকাত আদায় করতে হয়। প্রত্যেক মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, বিবেকবান, স্বাধীন এবং সুনির্দিষ্ট জনপদে স্থায়ীভাবে বসবাস করে এমন ব্যক্তির উপর জুমা নামাজ আদায় করা ফরজ।
২. জুমা নামাজ নারী, রোগী, শিশু, মুসাফির ও দাস-দাসীর উপর ফরজ নয়। তবে এদের মধ্যে যারা জুমা নামাজে হাজির হবে তা তাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে।
৩. আর মুসাফির তথা ভ্রমণকারী ব্যক্তি যদি কোনো স্থানে যাত্রা বিরতি করে এবং সেটি জুমা নামাজের সময় হয় কিংবা জুমা নামাজের আজান শুনতে পায় তবে তার জন্য জুমা আদায় করা জরুরি।

জুমার শর্ত

১. জুমা নামাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (জোহর নামাজের ওয়াক্তে) আদায় করা ওয়াজিব।
২. যেখানে জুমা অনুষ্ঠিত হবে সে জনপদের কমপক্ষে দুই বা তারও বেশি নামাজির উপস্থিত হওয়া আবশ্যক।
৩. জুমার নামাজের আগে দুটি খুতবা দিতে হবে।
৪. জুমার নামাজের খুতবায় আল্লাহর প্রশংসা, তাঁর জিকির, স্মরণ ও শুকরিয়া থাকতে হবে।
৫. জুমার খোতবায় উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের দ্বীন ইসলাম তথা আল্লাহ ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্যের দিকে আহ্বান, উৎসাহ প্রদান করতে হবে।
৬. আল্লাহর একত্ববাদ, প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামসহ সব নবি-রাসুলদের রেসালাত এবং পরকালের ব্যাপারে নসিহত করতে হবে।
৭. তাকওয়া তথা আল্লাহর ভয় সম্পর্কে নসিহত করতে হবে।
৮. জুমার নামাজ আদায়কারীর জন্য জোহরের পড়ার প্রয়োজন নেই। জুমা-ই জোহরের জন্য যথেষ্ট।
৯. জুমা নামাজের হেফাজত করা ফরজ। অর্থাৎ যথা সময়ে জুমা আদায় করতে হবে এবং জুমা আদায়ে আগে আগে মসজিদে চলে যাওয়াও আবশ্যক। আর এতে রয়েছে অনেক ফজিলত।
১০. পর পর ৩ জুমা পরিত্যাগ করলে আল্লাহ তাআলা মানুষের অন্তরে মোহর মেরে দেন। (নাউজুবিল্লাহ)
সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত, জুমার নামাজের হুকুম ও শর্তসমূহ মেনে যথাযথভাবে জুমা নামাজ আদায় করা এবং জুমা নামাজের ব্যাপারে সতর্ক থাকা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাদের সাপ্তাহিক সেরা ইবাদতের দিন জুমা নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগিতে দিনটি অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।