Islamic News BD - The Lesson of Peace
ইসলামে পারিবারিক জীবন
মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ ১৮:১২ অপরাহ্ন
Islamic News BD - The Lesson of Peace

Islamic News BD - The Lesson of Peace

পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন এবং সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠান হলো পরিবার। আদম-হাওয়া এ দুজন মানুষের প্রেমময় পরিবার থেকেই আজকের এই বিকশিত সাড়ে সাত শ কোটি মানুষের উন্নত ও আধুনিক পৃথিবীর শুরু। আল্লাহপ্রদত্ত প্রতিটি ধর্মব্যবস্থায় পরিবারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অনেক অনেক বেশি। আজকের পৃথিবীতে এমন কোনো ধর্মের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে পরিবারের কথা গুরুত্বের সঙ্গে বলা নেই। দার্শনিকগুরু অ্যারিস্টটল বলেছেন, মানুষ পশুপাখির মতো সাধারণ কোনো প্রাণী নয়। শুধু বংশবিস্তারই মানুষের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। মানুষ সৃষ্টির পেছনের স্রষ্টার অনেক বড় উদ্দেশ্য রয়েছে। আর এ উদ্দেশ্য সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য পরিবারের বিকল্প নেই।

মানুষ সৃষ্টির পেছনে আল্লাহতায়ালার উদ্দেশ্য হলো- পরীক্ষা করে দেখা যে সৎকর্মে কে সবচেয়ে ভালো। সত্য-সুন্দর আর সৎকর্মের পৃথিবী গড়ে তোলার জন্য পরিবারের বিকল্প নেই। আধুনিক বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে, পরিবারের স্পর্শে বেড়ে ওঠা মানুষ অনেক বেশি সুখী, মেধাবী এবং নৈতিকবোধসম্পন্ন হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, বহু জটিল রোগ এবং মানসিক সমস্যার সহজ সমাধানের একমাত্র নাম পারিবারিক বন্ধন। পরিবার ছাড়া মানুষ অনেকটা পশুর মতো। অন্যভাবে বলতে গেলে, পশু ও মানুষের মাঝে একটি পার্থক্য হলো, পশুর মাঝে শক্তিশালী পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন নেই কিন্তু মানুষের মাঝে আছে। রসুল (সা.) পারিবারিক সম্প্রীতির ব্যাপারে এত বেশি বলেছেন, হাদিস এবং ফিকহ শাস্ত্রে পরিবার নিয়ে আলাদা অধ্যায়, ভলিউমও রয়েছে।

সুরা নূরসহ বিভিন্ন সুরায় আল্লাহতায়ালা বলেছেন, সামর্থ্যবান নারী-পুরুষের বিয়ে দেওয়াটা জরুরি। শুধু তাই নয়, সন্তান গর্ভধারণ, দুধপান, বাবা-মার সঙ্গে ব্যবহার, সন্তানের প্রতি কর্তব্য এবং খুব প্রয়োজন হলে বিচ্ছেদ নিয়মকানুন কী হবে তা-ও বিস্তারিত বলা হয়েছে কোরআনে। পরিবার নিয়ে একটি ভুল চিন্তা হলো, কেউ কেউ পরিবারের প্রয়োজন নেই। অন্যান্য প্রাণীর মতো মানুষও যেমন খুশি তেমনভাবে এমনকি বিকৃত উপায়েও যৌনকামনা পূরণ করবে। একজন ধর্মগুরুকে প্রশ্ন করা হলো কেন বিয়ে এত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের একটি তরুণদের সম্মেলনে তিনি এই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। তিনি বললেন, যদিও আমি এখন ধর্মগুরু তবে আমার কাছে সব ধর্ম ও সব মানুষের অধিকার সমান। আমার পড়াশোনা বেড়ে ওঠা ঘোর নাস্তিকদের মধ্যে। এই ইউরোপের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমি ডিগ্রি নিয়েছি। আমি দেখেছি, একজন নারী যিনি যৌবনে বিয়ের কোনো গুরুত্বই অনুভব করেন না, বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়ে বলে বিয়ে করলে এই হয় সেই হয়, নারীকে শিকলে বন্দি করা হয়, অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। ওই নারীটি যখন চল্লিশ পেরিয়ে পঞ্চাশের কাছাকাছি চলে আসে এবং যৌবনের আবরণ তার দেহ থেকে পড়ে যায় তখন তাকে সেজেগুজে কোনো মদের দোকানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় কোনো ছেলে বন্ধু তাকে কিছু সময় দেবে আনন্দ বিনোদনের জন্য এ আশায়। দৃশ্যটি আমার খুবই খারাপ লাগে। আমি বহু নারীকে জিজ্ঞেস করেছি, এখন তোমার কী মনে হয় বিয়ে ভালো নাকি উন্মুক্ত যৌনতা ভালো? চোখের পানি ছেড়ে তারা বলত, বিয়ে করলে আজ অন্তত পাশে কেউ না কেউ অবশ্যই থাকত। আমাদের জীবনের চরম ভুল ছিল বিয়ে না করা।

মৃত্যুর কয়েক বছর আগে বাংলা ভাষার শক্তিমান কবি হেলাল হাফিজ একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, একসময় যৌবন ছিল, মনে হতো বিয়ে করাটা বোকামি। এখন মনে হচ্ছে, বিয়ে না করেই ভুল করেছি। এই বয়সে একজন মানুষকে পাশে পাওয়া খুবই দরকার। আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি বিয়ে না করে কী ভুলটাই  করেছি। এখন এই বয়সে কে আর আমাকে বিয়ে করবে। অনেকে হয়তো বলতে পারেন বিয়ে করা সবার জন্য জরুরি নয়। কিন্তু আমাদের নবীজি (সা.) বিয়ের প্রতি যে গুরুত্ব দিয়েছেন, তা থেকেই সহজেই বুঝতে পারা যায়, বিয়েহীন সমাজ অন্তত মুসলমানের সমাজ নয়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজ ধীরে ধীরে বিয়েহীন, পরিবারবিমুখ হয়ে পড়ছে। এর নানাবিধ কারণও রয়েছে। তরুণরা বিয়ের প্রতি যতই বিমুখ হচ্ছে, ব্যভিচারের প্রতি ততই আগ্রহী হচ্ছে। এর পরিণাম বড়ই ভয়াবহ। আল্লাহতায়ালার শাস্তি থেকে বাঁচতে চাইলে, ভেঙে যাওয়া সমাজ ও পরিবারকে আবার দাঁড় করাতে চাইলে এখনই কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে ধর্মচিন্তকদের।