
প্রশ্ন: আশুরার রোজা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ বলে জানি। আবার আমার কিছু কাজা রোজাও রয়ে গেছে যেগুলো আদায় হয়নি। আমি যদি আশুরার দিন রোজা রাখি, নিয়তের সময় আশুরার রোজা ও একটি কাজা রোজা রাখারও নিয়ত করি, তাহলে কি আমার কাজা রোজা আদায় হওয়ার পাশাপাশি আমি আশুরার রোজার ফজিলতও পাবো?
উত্তর: আশুরার রোজা ৯ তারিখ ও ১০ তারিখ অথবা ১০ তারিখ ও ১১ তারিখ রাখতে হয়। আশুরার রোজা স্বতন্ত্র নফল ইবাদত আর কাজা রোজাও পৃথক ও স্বতন্ত্র ফরজ ইবাদত। তাই নফল আশুরার রোজার নিয়ত করলে নফল রোজাই আদায় হবে, আর কাজা রোজার নিয়ত করলে কাজা রোজাই আদায় হবে। একই দিনে একসঙ্গে নফল ও কাজা রোজা রাখা যায় না।কাজা রোজা আদায় করা যেহেতু ফরজ, তাই যদি আশংকা থাকে যে ১০ মহররম নফল রোজা রাখলে পরে কাজা রোজা আদায় করা কঠিন হয়ে যাবে, তাহলে ১০ মহররম নফল রোজা না রেখে কাজা রোজাই রাখা উচিত। আর এ রকম আশংকা না থাকলে ১০ মহররম আশুরার নফল রোজা রাখবেন, পরে সুবিধাজনক সময়ে কাজা রোজা আদায় করে নেবেন।
আশুরার রোজার ফজিলত
আশুরার দিন অর্থাৎ ১০ মহররম আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রোজা রেখেছেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখতে বলেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরতের পর মদিনার ইহুদিদের আশুরার দিন রোজা রাখতে দেখে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তারা বলল, এটি একটি উত্তম দিন যেদিন আল্লাহ মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছেন। তাই মুসা (আ.) এ দিন রোজা রাখতেন। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি তোমাদের চেয়েও মুসার (আ.) অধিক নিকটবর্তী। এরপর তিনি এ দিন রোজা রাখেন, অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন। (সহিহ মুসলিম: ২৫৪৮)
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সব সময় আশুরার রোজা রাখতেন। কখনও তিনি আশুরার রোজা বাদ দেননি। উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রা.) বলেন, নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনো চারটি আমল পরিত্যাগ করেননি। সেগুলো হলো, আশুরার রোজা, জিলহজের প্রথম দশকের রোজা, প্রতি মাসে তিন দিন রোজা, ও ফজরের পূর্বের দুই রাকাত নামাজ। (সুনানে নাসাঈ: ২৪১৬)
আশুরার দিন রোজা রাখলে আল্লাহ তাআলা এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেন। আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আশুরার রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, এ রোজার কারণে আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। (সহিহ মুসলিম: ২৬১৭)
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজান মাসের রোজা ও আশুরার দিনের রোজার মতো অন্য কোনো রোজাকে এত বেশি গুরুত্ব দিতে দেখিনি। (সহিহ বুখারি: ২০০৬)