
ভীরুতা, অলসতা ও সব রকম মানসিক-শারীরিক দুর্বলতা দূর করে সাহসী, কর্মঠ ও শক্তিশালী হতে নবীজি (সা.) থেকে বর্ণিত এ দোয়াটি পড়ুন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল-হাম্মি ওয়াল-হুযনি, ওয়া আউযুবিকা মিন গালাবাতিদ-দাইনি ওয়া কাহরির রিজাল।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে মুক্তি চাই। আশ্রয় চাই অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে এবং ঋণের বোঝা ও মানুষের কঠোরতা থেকে। (সহিহ বুখারি: ৬৩৬৯)
এই চমৎকার দোয়ায় নবী করিম (সা.) সাহসী, কর্মমুখী ও আত্মমর্যাদাশীল জীবনযাত্রাকে ব্যাহতকারী আটটি চরম নেতিবাচক বিষয় থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন, যা দুটি করে চারটি জোড়ায় বিভক্ত:
১. হাম্ম ও হাজান (দুশ্চিন্তা ও অতীত-শোক): হাম্ম হলো ভবিষ্যৎ নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা, যার ফলে মানুষের কাজের উদ্যম নষ্ট হয়ে যায়। আর 'হাজান হলো অতীত কোনো ব্যর্থতা বা শোকের স্মৃতিতে আকণ্ঠ ডুবে থেকে বর্তমানকে নষ্ট করা। এই দুটি মানসিক অবস্থাই মানুষকে ভেতর থেকে নিঃশেষ করে দেয়।
২. আজয ও কাসাল (অপারগতা ও অলসতা): আজয হলো শারীরিক বা মানসিক সক্ষমতা না থাকা বা অক্ষমতা। আর কাসাল বা অলসতা হলো সুযোগ ও শক্তি থাকা সত্ত্বেও কোনো কাজে উদ্যোগী না হওয়া বা গড়িমসি করা। ইসলাম অলসতাকে মারাত্মক আত্মিক ব্যাধি হিসেবে গণ্য করেছে।
৩. জুবন ও বুখল (ভীরুতা ও কৃপণতা): জুবন বা ভীরুতা মানুষকে সাহস ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ন্যায়ের পথে চলতে বাধা দেয় এবং হীনম্মন্য করে তোলে। অন্যদিকে বুখল বা কৃপণতা মানুষের মনকে সঙ্কুচিত করে ও সামাজিকভাবে তাকে ছোট করে রাখে। কর্মঠ ও সাহসী হতে হলে ভীরুতা এবং কৃপণতা উভয়ই পরিহার করা আবশ্যক।
৪. গালাবাতিদ দাইন ও কাহরির রিজাল (ঋণের বোঝা ও মানুষের অত্যাচার): অনিয়ন্ত্রিত ঋণ মানুষের স্বাধীনতা হরণ করে এবং অন্যের মুখাপেক্ষী করে তোলে। আর মানুষের জুলুম বা অন্যায় প্রাধান্য আত্মসম্মানবোধ গুঁড়িয়ে দেয়।