Islamic News BD - The Lesson of Peace
দোয়ার অপরিসীম গুরুত্ব, কীভাবে দোয়া করলে কবুল হয়?
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ১০:৩২ পূর্বাহ্ন
Islamic News BD - The Lesson of Peace

Islamic News BD - The Lesson of Peace

নবীজি (সা.) বলেছেন, দোয়াই ইবাদত। দোয়া সব ইবাদতের মূল। যদিও আমরা জানি নামাজ অনেক বড় ইবাদত, নামাজের মধ্যেও দোয়া আছে, সুরা ফাতেহার মধ্যেও দোয়া আছে, তবুও দোয়াকে মূল ইবাদত বলা হয়েছে এই জন্য যে, দোয়া যখন করি তখন আমরা আমাদের কাজের মাধ্যমে স্বীকার ও প্রদর্শন করি যে, আল্লাহ তাআলা দেওয়ার মালিক আর আমরা সবাই তাঁর কাছে ফকির, তিনি আমাদের একমাত্র রব ও একমাত্র আশ্রয়, তাই দোয়াকে ইবাদতের মূল বলা হয়েছে।যারা ইবাদত করে না, দোয়া করে না, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা সুরা গাফিরের সাত নম্বর আয়াতে বলেছেন, তোমরা আমার কাছে দোয়া করো, আমি কবুল করব। আর যারা অহংকারবশত আমার কাছে দোয়া করে না, তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে অপমানিত হয়ে। এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর কাছে বেশি দোয়া না করাটা অহংকারের লক্ষণ।একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে দোয়া করে না, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন। তিনি তো দেওয়ার জন্য বসে আছেন, কবুল করার জন্য বসে আছেন, আর আমি দোয়া করছি না এজন্য আল্লাহ তাআলা আমার ওপর অসন্তুষ্ট হচ্ছেন! তাহলে কেন আমরা দোয়া করব না? কত বিপদ-আপদ আমাদের জীবনে আসে-যায়, কত দরকার আমাদের থাকে! যতই ভালো জিনিস জীবনে থাকুক না কেন, নানা অসুবিধা তো লেগেই থাকে।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমার জীবনে যদি কোনো কষ্ট আসে, তাহলে তা দূর করার তিনি ছাড়া কেউ নেই। আর তিনি তোমাকে কোনো ভালো কিছু দিতে চাইলে সেটা আটকানোর ক্ষমতাও কারো নেই। সুতরাং দেওয়ার মালিক, সাহায্য করার মালিক, উদ্ধার করার মালিক এক আল্লাহ তাআলা।একটি হাদিসে নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ তাআলার কাছে মানুষের পক্ষ থেকে ইবাদতের মধ্যে দোয়ার চেয়ে সম্মানিত কোনো জিনিস পৌঁছায় না। আল্লাহর তাআলা সবচেয়ে বেশি সম্মানিত বোধ করেন, যখন আমরা আমাদের দোয়া তাঁর কাছে পাঠাই।

কীভাবে দোয়া করলে কবুল হয়?

নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে দোয়া করার কিছু আদবও শিখিয়েছেন। একটি আদব হলো, দোয়ার আগে-পরে শুরুতে এবং শেষে একটু দরুদ শরিফ পড়া। তাহলে এই দোয়া তাড়াতাড়ি কবুল হয়। আর যতক্ষণ এই দরুদ শরিফ পাঠানো না হয়, দোয়ার আগে-পরে পড়া না হয়, ততক্ষণ দোয়া জমিন এবং আকাশের মাঝখানে ঝুলে থাকে। কাজেই দোয়া কবুল হওয়ার জন্য শুরুতে এবং শেষে এক লাইনের দরুদ শরিফ হলেও পড়ে নিতে হয়।আরেকটি আদব হলো, দোয়ার নগদ ফল না চাওয়া। নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি হাদিসে বলেছেন, লোকেরা দোয়া করে এবং নগদ উত্তর না পেলে মনে করে তার দোয়া কবুল হয় না। মানে মানুষ কয়েকদিন, কয়েকবার, কয়েকটা বিষয়ে খুব দোয়া করে, তখনই ফল চায়। তখনই ফল না পেলে মনে করে তার দোয়া কবুল হয়নি। তখন সে হতাশ হয়ে যায় যে, দোয়া করে লাভ কী? আমার দোয়া তো কবুল হয় না। এরপর সে দোয়া ছেড়েই দেয়। এই ব্যক্তি হতভাগা!

আমরা যতক্ষণ ইখলাসের সঙ্গে দোয়া করতে থাকি, ততক্ষণ কবুল হতেই থাকে। হাদিসে নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, দোয়ার ফল তিন তরিকায় দেওয়া হয়। একটা হলো, আল্লাহ তাআলা আমরা যা নগদ চেয়েছি, সেটাই দিয়ে দেন। আরেকটা হলো, আল্লাহ তাআলা তার কোনো বিপদ দূর করে দেন। মানে এমন একটা বিপদ যা তার ওপর আসার কথা ছিল, সেটা আটকে দেন। তিন নম্বরে হলো, আল্লাহ তাআলা সেই দোয়া ধরে রাখেন, সংরক্ষিত করে রাখেন তাঁর কাছে। সেটার জবাব আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে না দিয়ে আখেরাতে দেবেন।বান্দা যখন আখেরাতে তার বিপদের দিনে দোয়ার এত বড় পুরস্কার পাবে, তখন আল্লাহর শোকর আদায় করবে যে, হে আল্লাহ! দুনিয়ার ছোট্ট জিন্দেগীর জন্য একটা ছোট্ট দোয়া করেছিলাম, সেটা আমাকে দেননি, তার বিনিময়ে তা ধরে রেখে আখেরাতে আমাকে জান্নাতে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন! তখন আমরা আল্লাহর প্রতি কত বেশি কৃতজ্ঞ হয়ে যাব। কাজেই আমরা যেন কখনো মনে না করি যে আমার দোয়া বোধ হয় কবুল হয় না।দোয়ার আরেকটা আদব হলো দোয়া খুব গোপনে আল্লাহর কাছে করা। গোপনে দোয়া করলে আল্লাহ বেশি কবুল করেন। আল্লাহ বলেছেন, তোমরা খুব বিনয়ী হয়ে, আল্লাহর কাছে নরম হয়ে, কান্নাকাটি করে এবং গোপনে বেশি করে আল্লাহর কাছে দোয়া করো।