Islamic News BD
The Lesson of Peace

দেশে ফিরতে চায়-লকডাউনে আটকেপড়া সৌদিআরবের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির প্রায় দু-শতাধিক শিক্ষার্থী

দেশে ফিরতে চায়- লকডাউনে আটকেপড়া প্রায় দু-শতাধিক শিক্ষার্থী …

0

সৌদিআরবে আন্তর্জাতিকমানের বিখ্যাত ইউনিভার্সিটিগুলোতে স্কলারশীপ নিয়ে পড়াশোনা করছে প্রায় ০৫শতাধিক বাংলাদেশী মেধাবী শিক্ষার্থী,
মাদীনা বিশ্ববিদ্যালয়, উম্মুল কোরা, কিং সাউদ, কিং আব্দুল আজিজ,দাম্মাম ইউনিভার্সিটি সহ প্রায় ১১টি উন্নতমানের প্রতিস্ঠানে এসব শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
এরমধ্যে সবচেয়ে বেশী শিক্ষার্থী রয়েছে মাদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে বিশ্বের ১৯০টি দেশের প্রায় বিশ হাজার ছাত্র পড়াশোনা করছে। এরমধ্যে বাংলাদেশী ছাত্র রয়েছে দু-শতাধিক,বিশ্বের একমাত্র দেশ সৌদিআরব, যেখানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত মুল্যায়ন করা হয়। সম্পুর্ণ ফুল ফ্রি স্কলারশীপ দিয়ে ছাত্রদের থাকা খাওয়া, আবাসনসহ বত্সরে দেশে একবার আসা যাওয়ার ব্যবস্থা দিয়ে থাকে সরকার ।

সৌদি আরবে লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে থেমে যায়নি ইউনিভার্সিটির শিক্ষা কার্যক্রম, অনলাইন জুম এপ্স, ব্লাকবোর্ডসহ বিভিন্ন এপ্সের মাধ্যমে ক্লাস চলতে থাকে। অনলাইনের মাধ্যমে এসাইনমেন্ট, থিসিস,সহ সবকিছু গ্রহন করা হয়।

সর্বশেষ গত ২৮এপ্রিল থেকে নিয়ে ১২ মে ২০২০ ইংরেজী পর্যন্ত সকল বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা অনলাইন এপ্সের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী রমজান মাস সহ প্রায় তিনমাস গ্রীষ্মকালীন ছুটি থাকে, তাই স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী ছাত্ররা এই সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে ছুটি পেয়ে থাকে।

বর্তমান বিশ্ব করোনা পরিস্থিতির কারণে রমজানের আগেই লকডাউন চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের দেশের ছাত্রদের ফিরিয়ে নেয়। এরমধ্যে ইউরোপীয়ান দেশ কানাডা ফ্রান্স লন্ডন আমেরিকা এবং রাশিয়াসহ বেশ কিছু দেশের ছাত্ররা গত রমজানের আগেই দেশে চলে যায়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর একে একে প্রায় অধিকাংশ দেশের ছাত্ররাই তাদের দেশে চলে যায়।
সবাই সৌদি এয়ারলাইন্সেই নিজ দেশে পৌছে।

গত দুই সপ্তাহ আগে মাদীনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্ডিয়ান ছাত্রদের নিয়ে একটি ফ্লাইট পরিচালিত হয়।

আটকে পড়ে আছে শুধু বাংলাদেশী ছাত্র ও গুটিকয়েক দেশের সল্পসংখ্যক ছাত্র।
তাদের দেশে যাওয়ার ব্যপারে রাস্ট্রদুত সহ এম্বাসি লোকদের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তারা বিষয়টিকে গুরুত্বারোপ করেননি। তারা বিভিন্ন ওজর পেশ করছেন। লং প্রসেসিং এর কথা বলছেন।
অথচ বাস্তবতা সম্পুর্ণ ভিন্ন। দুতাবাসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হলে তা দেয়া হয় মাদীনা ইউনিভার্সিটি এর বাংলাদেশী ছাত্র প্রতিনিধি জাকারিয়া আব্দুল জলীলের মাধ্যমে।
সরকার সাধারণ প্রবাসীদের সাথে স্টুডেন্ট এর বিষয়টি কে দেখছে এবং রেমিটেন্স এর কথা ভাবছে। অথচ ছাত্রদের সাথে রেমিট্যান্স বিষয়ের নুন্যতম সম্পর্ক নেই।
তাছাড়া উক্ত নির্ধারিত সময়ের ভেতর তারা দেশে ফিরতে না পারলে, বত্সরের মধ্যখানে আর ফেরার সুযোগ নেই। আগস্টের পর থেকে আবার ক্লাস শুরু হয়ে যাবে।
অলরেডি যারা দেশে আসতে চায় তাদের সবার খুরুজ আওদা (আসা যাওয়া ) ভিসা নেমে আছে মাস খানেক আগে থেকে ।
কিন্ত শুধুমাত্র বাংলাদেশ সরকারের এম্বাসি মারফত একটি অনুমোদন লেটার পেলেই সৌদি সরকার নিজস্ব এয়ার ফ্লাইটে ছাত্রদের দেশে পৌছে দিতে প্রস্তুত। এতে বাংলাদেশ সরকারের একটি টাকা ও তাতে খরছ হচ্ছে না।
উক্ত বিষয়ের কারণে ছাত্রদের দেশে আসার সুযোগ হচ্ছে না।
বাংলাদেশী ছাত্রদের একটাই প্রশ্ন আমাদের কে সরকার মুল্যায়ন করছে না কেন? আমরা কি এদেশের সন্তান নয় ?
নাকি সৌদিতে পড়াশোনা করার কারণে আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি।
অথচ আমরা জানি কিছুদিন আগে কানাডায় অধ্যয়নরত স্টুডেন্টদের নিয়ে বাংলাদেশে একটি বিশেষ ফ্লাইট আসে। এছাড়া আরো কয়েকটি দেশের স্টুডেন্টদের আসার সংবাদ ও আমরা পেয়েছি।
আমাদের ছাত্র ভাইদের বক্তব্য – ভার্সিটির ক্যম্পাসে সেফ কোয়ারেইন্টানে থাকা এখন আর আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ছুটিকালীন বেকার সময় কাটানো আমাদের জন্য কস্টসাধ্য হয়ে আছে। আমাদের অনেকের ফ্যমিলি রয়েছে দেশে, এছাড়া প্রত্যেকেরই কোন না কোন ব্যক্তিগত কাজ রয়েছে।
অতএব আমাদের ছাত্রভাইদের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি এবং নির্ধারীত দায়িত্বশীলদের প্রতি জোর দাবী আমাদেরকে অতি সত্বর দেশে আসার পারমিট দেওয়া হউক। আমরা দেশে ফিরতে চাই।
যেহেতু বিশেষ ফ্লাইট চালু রয়েছে, তাই আমরা বিশেষ ফ্লাইটের আওতায় দেশে ফিরতে চাই। #এছাড়া সৌদিতে আমাদের দেশের অনেক রেমিট্যান্স যোদ্ধা, অসহায়, অসুস্থ, টাকার অভাবে চিকিৎসা পাচ্ছে না। তাদের কে ও দ্রুত নিজ মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।

মাদীনা ইউনিভার্সিটির তরুন মেধাবী সদ্য শিক্ষা সমাপনকারী গ্রাজুয়েট মো: ফুয়াদ হাসান, ফয়সাল আহমাদ শাকিল, শামসুল আরেফীন, জানান আমরা এ বত্সর শিক্ষা সমাপন করেছি, ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ আমাদের ভিসা ও দিয়েছে, কিন্ত বাংলাদেশ সরকারের যাস্ট একটি অনুমোদনের কারনে দেশে ফিরতে পারছি না। আমরা যেকোনো উপায়ে দেশে ফিরতে চাচ্ছি। বর্তমানে আমাদের প্রবাসে বেকার জীবন, অনেক কস্টসাধ্য হয়ে দাড়িয়েছে,

দাম্মাম ইউনিভার্সিটি থেকে মুফতী আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান। আমাদের ইউনিভার্সিটির আজ থেকে একমাস পুর্বে পরীক্ষা শেষ হয়েছে, ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ আমাদের জন্য ভিসা ও দিয়ে রেখেছে।
ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের ছাত্ররা দেশে চলে গেছে।

ভার্সিটি ফাকা হয়ে আছে, একাকী জীবন যাপন অনেকটা কস্ট সাধ্য হয়ে দাড়িয়েছে।
তাই সরকারের কাছে জোর দাবী জানাই। আমাদের কে যে কোন মুল্যে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হোক।
মাদীনা ইউনিভার্সিটির তরুন মেধাবী শিক্ষার্থী নাজিউর রহমান, হাফিজুর রহমান, আহমাদক মুয়াজ, মো: উবায়দুর রহমান মোহাম্মদ হাসানাইন, মিজানুর রহমান জানান। – আমাদের ভার্সিটি বন্ধের আজ প্রায় একমাস হয়ে যাচ্ছে- ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ আমাদের জন্য ভিসা ও দিয়ে রেখেছে, কিন্ত যাস্ট বাংলাদেশ সরকারের একটি অনুমোদনের কারণে আমাদের দেশে ফেরা হচ্ছে না। আমরা সরকারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি, আমাদের কে দেশে ফেরার জন্য অনুমোদন লেটার প্রদান করা হোক। আমরা দেশে ফিরতে চাই।

সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন, আল্লাহ হাফেজ।

মাহফুজ আহমাদ
ইসলামিক ইউনিভার্সিটি,
মাদীনা মুনাওয়ারা সৌ