Islamic News BD
The Lesson of Peace

নারীর হজ ও উমরা শুরু করার আগে যা করণীয়

0

এক. হজ শুরু করার আগে আপনাকে কয়েকটি কাজ করতে হবে:

১- স্বামীর অনুমতি:
(ক) যদি আপনার হজটি ফরজ হজ হয়ে থাকে তবে স্বামীর অনুমতি নেয়া আপনার জন্য মুস্তাহাব। যদি স্বামী অনুমতি দেন তবে ভাল। আর যদি অনুমতি না দেন তারপরও যদি আপনি মুহরিম সাথি পান তবে আপনাকে হজ করতে হবে। কোন স্বামীর জন্য আপন স্ত্রীকে ফরজ হজ আদায় করতে বাধা দেয়া উচিত হবে না। হাঁ, এ ব্যাপারে স্ত্রীর নিরাপত্তা ও অন্যান্য যাবতীয় শর্তাদি পূরণ হয়েছে কি না তা দেখাও স্বামীর কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। কারণ, সক্ষম হলেই দেরি না করে হজ আদায় করে নেয়া উচিত। নচেৎ যদি বাধা দেয়ার কারণে স্ত্রী কোন কারণে পরবর্তীতে অপারগ হয়ে পড়ে তবে স্বামী সহ তারা উভয়ই গুনাহ্‌গার হবে।
আর যদি আপনার হজটি নফল হজ হয়ে থাকে তবে স্বামীর অনুমতি নেয়া আপনার জন্য ফরজ। স্বামীর অনুমতি ব্যতীত আপনি হজে যেতে পারবেন না। অনুরূপভাবে, স্বামীও আপনাকে নফল হজে গমনের ক্ষেত্রে তার অধিকারের কথা বিবেচনায় রেখে বাধা দেয়ার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।
আর যদি কোন মহিলা স্বামীর মৃত্যু-জনিত ইদ্দত পালন অবস্থায় থাকে। তাহলে সে মহিলা ইদ্দতের সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত হজে যেতে পারবে না। কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেন:

“হে নবী! তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রী গণকে তালাক দিতে ইচ্ছে কর তাদেরকে তালাক দিয়ো ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং তোমরা ইদ্দতের হিসেব রেখো এবং তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা তাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বহিষ্কার করো না এবং তারাও যেন বের না হয়।”
(খ) কোন পিতা বা মাতা কেউই তাদের মেয়ে সন্তানকে ফরজ হজে গমন করতে বাধা দেয়ার অধিকার রাখে না। যদি কোন মেয়ে হজে যাওয়ার সামর্থ্য থাকে এবং মাহরাম পায় তখন তার জন্য পিতা-মাতার আনুগত্যের দোহাই দিয়ে হজে যাওয়া থেকে বিরত থাকা বৈধ নয়।

২- মাহরাম থাকা:
মহিলাদের উপর হজ ফরজ হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, মাহরাম থাকা। কেননা; কোন মাহরাম ব্যতীত মহিলাদের একাকী সফর করা জায়েয নয়। এ ব্যাপারে যুবা-বৃদ্ধা, সুন্দরী-কুশ্রী, চাই সে সফর উড়োজাহাজে হোক অথবা গাড়ি-রেলগাড়ি যেটাই হোক সর্বাবস্থায় মাহরাম থাকা বাধ্যতামূলক। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,

“কোন মহিলা মাহরাম ছাড়া যেন সফর না করে, অনুরূপভাবে কোন মাহরাম এর উপস্থিতি ছাড়া কোন পুরুষ যেন কোন মহিলার ঘরে প্রবেশ না করে” এ কথা শোনার পর এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক অমুক যুদ্ধে যেতে চাই অথচ আমার স্ত্রী হজে যেতে চায়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তুমি তার সাথে বের হও”।

৩- খাটি তাওবা :
তাওবাহর গুরুত্ব এ থেকে বোঝা যায় যে, আল্লাহ তাআলা কেবলমাত্র মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন। মহান আল্লাহ বলেন:

“আল্লাহ কেবলমাত্র মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন”।
আর যে ব্যক্তি বারবার কোন গুনাহ করে সে তাকওয়া থেকে দূরে রয়েছে। সুতরাং এ গুরুত্বপূর্ণ সফরের পূর্বে অবশ্যই খাটি তাওবা করে নেয়া উচিত এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসা দরকার। মহান আল্লাহ কোন বান্দার তাওবায় এতই খুশি হোন যে, এ বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি উদাহরণের মাধ্যমে পেশ করেছেন। তিনি বলেন:

“কোন বান্দা যখন তাওবা করে তখন আল্লাহ তার তাওবায় এতই খুশি হোন যেমন তোমাদের কেউ শুষ্ক জনমানবহীন মরুভূমিতে ছিল। এমন সময় তার বাহনটি তার কাছ থেকে পালিয়ে গেল অথচ সে বাহনের উপর তার খাবার ও পানীয় রয়েছে। সে নিরাশ হয়ে এক গাছের নীচে শুয়ে পড়ল। তার মনে হচ্ছে যে, মৃত্যু তার খুবই নিকটে। এমতাবস্থায় হঠাৎ করে সে দেখল যে, তার বাহনটি তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তখন সে বাহনটির লাগাম ধরে খুশির চোটে ভুল করে বলল: হে আল্লাহ তুমি আমার বান্দা আর আমি তোমার প্রভু।”
আর তাওবাহ তখনই পূর্ণ হবে যখন যাবতীয় হারাম কার্যাদী থেকে নিজেকে পবিত্র রাখা যায়। চাই তা কথার মাধ্যমে হোক বা কাজের মাধ্যমে হোক যেমন, গিবত, পরনিন্দা, পরচর্চা, বেপর্দা, ও হারাম গান-বাদ্য ইত্যাদি থেকে মুক্ত থাকতে হবে।

৪- এখলাস :
তাকওয়ার উপর ভিত্তি করে কোন এবাদত না হলে যেমন তা কবুল হয় না তেমনিভাবে এখলাস না থাকলেও সেটা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না। একমাত্র মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোন কাজ না হলে আল্লাহ সেটা গ্রহণ করেন না। সুতরাং যে কেউ লোক দেখানো অথবা শোনানোর জন্য, হাজী সাহেবা বলানোর জন্য হজ করতে যাবে সে সওয়াবের বদলে তার জীবনের সমস্ত সওয়াব শেষ করে আসবে। কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহ বলবেন:

“তাদের কাছে যাও যাদেরকে দেখানো বা শোনানোর জন্য তোমরা আমল করেছিলে”।

৫- অসিয়ত করা।
এ সফরে যাওয়ার আগে আপনি আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অসিয়ত করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

“কোন মুসলিমের যদি কোন কিছু অসিয়ত করার থাকে তার জন্য এটা উচিত হবে না যে, সে অসিয়ত না করে দু’টি রাত যাপন করে”।
আলেমগণ বলেন, যদি মানুষের হকের ব্যাপারে কোন অসিয়ত থাকে, যেমন কারো ঋণ, আমানত অথবা কোন ফরজ হক যা অসিয়ত ছাড়া সাব্যস্ত করার উপায় নেই এমতাবস্থায় অসিয়ত করে তা লিখে রাখাও উচিত। আর যদি কারো জন্যে সম্পদ থেকে নফল অসিয়ত করতে চায় তাহলে এক তৃতীয়াংশের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ রাখা প্রয়োজন।

৬- হজের মাসলা-মাসায়েল শিক্ষা করা.
হজের হুকুম আহকাম জানা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অথচ অধিকাংশ মানুষ হজের নিয়মাবলি না জেনে বা ভাসা ভাসা ধারণা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে। ফলে অনেক সময় দেখা যায় যে হজের জন্য এতকিছু বিসর্জন দিল তার সে হজ আশানুরূপ হয়ে উঠে না। অন্যায়-ও শরিয়ত গর্হিত কাজে নিজেরা জড়িয়ে পড়ে। আবার অনেকে বিদআতও করে বসে। হজ করা যেমন ফরজ, হজের নিয়ম-নীতি জানাও তেমনি ফরজ। কারণ, ফকিহগণের সুনির্দিষ্ট একটি “ধারা” হলো: “যা না হলে ফরজ আদায় হয় না তা করাও ফরজ।”
সুতরাং প্রত্যেক হাজী সাহেবারই উচিত হজের মাসলা-মাসায়েল সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা। চাই সেটা বিজ্ঞ আলেমদের জিজ্ঞাসা করেই হোক বা গ্রহণযোগ্য হজের কিতাব পাঠ করার মাধ্যমেই হোক অথবা হজ সংক্রান্ত কোন ক্যাসেট বা সিডি দেখার মাধ্যমেই হোক।

৭- টিকা গ্রহণ করা.
মুসলিম নর-নারী সবারই উচিত ছোট-বড় যাবতীয় বিষয়ে একমাত্র আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে কাজ করা। এ তাওয়াক্কুলের পর্যায়ে পড়ে এতদসংক্রান্ত বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করা। উপায়-উপকরণ গ্রহণের প্রথমেই রয়েছে, টিকা গ্রহণ করা। কারণ বিভিন্ন দেশ থেকে সেখানে মানুষের সমাগম হয়। বিভিন্ন ধরনের মহামারির উপদ্রব হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই আল্লাহর উপর ভরসা করার সাথে সাথে তাকে মারাত্মক জ্বর-রোগ-ব্যামো ইত্যাদির জন্য টিকা নেয়া উচিত।

দুই. হজের সফরে আপনাকে কয়েকটি জিনিস সাথে নিতে হবে:
হজের সফরে আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জিনিস সাথে নিতে হতে পারে, যা আপনার কাজে আসবে। যেমন:

১- এক খণ্ড কোরআন শরীফ :
যাতে আপনি গাড়ি, কিংবা বিমান অথবা খীমা যেখানে যে অবস্থায় থাকুন না কেন নিজের সময়টুকু কাজে লাগাতে পারেন। এ গুরুত্বপূর্ণ ঈমানী সফরটুকুকে কাজে লাগানোর সবচেয়ে উত্তম ও সঠিক মাধ্যম হলো, আল্লাহর কোরআনের সাথে সময়টুকু কাটানো। চিন্তা করে দেখুন, এক বর্ণে দশ নেকি থেকে শুরু করে সাত শত নেকি পর্যন্ত।
অনেকে বাজারে প্রচলিত ওজিফা নিয়ে থাকে। এ সমস্ত ওজিফা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শরিয়ত-বিরুদ্ধ কথা ও কাজে ভরপুর। এগুলো সাথে নেয়া যেমন গর্হিত কাজ তেমনি এগুলো পড়ে সময় নষ্ট করাও খারাপ কাজ। এগুলোর পরিবর্তে নিজেকে পবিত্র কোরআনের সাথে রাখুন।

২- ব্যাটারি সমেত ছোট একটি ক্যাসেট প্লেয়ার:
কারণ যখন আপনার কোরআন পড়তে অসুবিধা হবে তখন আপনি কারো কোরআন পড়া শুনতে পারেন। কোরআন শুনলেও সওয়াব হয়। সুতরাং আপনার প্রতিটা মুহূর্তে কোন না কোন ভাল কাজে ব্যয় করার জন্য সচেষ্ট থাকুন। তাছাড়া কোন হজ বা দীনি কোন ভাল আলেমের ক্যাসেটও শুনতে পারেন।

৩- গুরুত্বপূর্ণ কিছু দ্বীনি কিতাব:
হজের আহকাম সংবলিত ভালো ও গ্রহণযোগ্য কোন গ্রন্থ আপনার সাথে রাখার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে শায়খ আব্দুল আযীয ইবনে বায ও শায়খ মুহাম্মদ ইবনে সালেহ আল-উসাইমীন রাহেমাহুল্লাহ এর গ্রন্থসমূহ থেকে আপনি হজের সঠিক দিক-নির্দেশনা নিতে পারেন।

৪- স্যানেটারী ন্যাপকিন ও গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ