Islamic News BD
The Lesson of Peace

মিজানের পাল্লা ভারি করার চমৎকার ১০ আমল

0

মুমিন মুসলমানের জন্য ১০টি আমলের গুরুত্ব অনেক বেশি। যে আমলগুলোর বিনিময় মহান আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দার আমলনামায় অগণিত সাওয়াব দান করবেন। মিজানের পাল্লায় তা হবে সাত আসমান ও সাত জমিনের চেয়ে বেশি ওজন। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় উঠে আসা চমৎকার ১০টি আমল হলো-

>> সকাল-সন্ধ্যায় لَا اِلَهَ اِلَّا الله ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ জিকির করা।

সকাল-সন্ধ্যা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ জিকির করা। যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ জিকির করবে, তার আমলনামার পাল্লা সাত আসমান ও সাত জমিনের চেয়েও ভারি হবে। তার জন্য জান্নাত হবে সুনিশ্চিত। হাদিসে এসেছে-

– হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহর নবি নূহ আলাইহিস সালাম মৃত্যুর সময় তাঁর ছেলেকে এ বলে অসিয়ত করেছেন যে, দুটি জিনিসের আমল করবে আর দুটি নিজিস থেকে বিরত থাকবে। আমলের আদেশ ছিল- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র (জিকির করা)। মনে রেখ! যদি সাত আসমান ও সাত জমিন এক পাল্লায় রাখা হয় আর অপর পাল্লায় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ রাখা হয়; তবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র পাল্লা ভারি হবে। যদি সাত আসমান ও সাত জমিন একটি অবিচ্ছদ্য গোলাকার বৃত্ত হত, তাহলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ও ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ সবকিছুকে চুর্ণ-বিচুর্ণ করে ফেলতো। ইহা প্রতিটি জিনিসের দোয়া এবং এর মাধ্যমেই সৃষ্টিরাজি রুজি পেয়ে থাকে। আর তোমাকে নিষেধ করি শিরক ও অহংকার থেকে। (মুসনাদে আহমাদ, বুখারি, আদাবুল মুফরাদ)

– হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলা বলবেন, হে মুহাম্মাদ! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সৃষ্টির মধ্য থেকে আপনার উম্মতের এমন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করান, যে ব্যক্তি একদিন হলেও ইখলাসের সঙ্গে এ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নাই এবং সে এর উপর মৃত্যুবরণ করেছে।’ (মুসনাদে আহমদ)

> সব সময় اَلْحَمْدُ لِله ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা

সুখের খবর কিংবা দুঃখের খবর, আনন্দের খবর কিংবা বিপদের খবর; যে কোনো সংবাদেই সব সময় ‘আলহামদুল্লিাহ’ তথা সব প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য বলা। আর তাতে বান্দার আমলনামার পাল্লা সাত আসমান ও সাত জমিন থেকেও ভারি হবে। আর তা হবে জান্নাত লাভের মাধ্যম। হাদিসে এসেছে-

– হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সর্বোত্তম জিকির হচ্ছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং সর্বোত্তম দোয়া হলো ‘আল-হামদুলিল্লাহ’।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান)

– রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এক বেদুইন এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে কোনো একটি ভালো কাজ শিখিয়ে দিন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন তার হাত ধরে এ শব্দগুলো শিখিয়ে দিলেন- সুবহানাল্লাহ (سُبْحَانَ الله), আলহামদুলিল্লাহ (اَلْحَمْدُ للهِ), লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (لَا اِلَهَ اِلَّا الله), – আল্লাহু আকবার (اَللهُ اَكْبَر)। লোকটির হাত ধরে প্রিয়নবি বললেন, এ শব্দগুলো বেশি বেশি পড়বে।

লোকটি এ কথা শুনে চলে গেলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর লোকটি আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে ফিরে আসলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হেসে বললেন, লোকটি কি যেন চিন্তা করছে। ফিরে এসে লোকটি প্রিয়নবিকে বললেন-

‘সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার’ আপনি যে বাক্যগুলো আমাকে শিখালেন, এ বাক্যগুলোতে আল্লাহর জন্য। কিন্তু আমার জন্য কী? এগুলো পড়লে আমি কী পাবো?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন, তুমি যখন বলবে, ‘সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার’ তখন প্রতিটি শব্দের উত্তরে আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি সত্য বলেছ। তারপর জিকিরকারী আল্লাহর কাছে নিজের যেসব চাহিদা তুলে ধরবে, আল্লাহ তা-ই কবুল করে নেবেন। যেমন-

– বান্দা বলবে- (اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِىْ) আল্লাহুম্মাগফিরলি, হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করে দিন। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, ‘তোমাকে মাফ করে দিলাম।

– বান্দা বলবে- (اَللَّهُمَّ ارْحَمْنِىْ) আল্লাহুম্মার হামনি’ হে আল্লাহ আপনি আমাকে রহম করুন। তখন আল্লাহ বলবেন, ইতিমধ্যে তোমার প্রতি রহম করেছি।

– বান্দা বলবে- (اَللَّهُمَّ ارْزُقْنِىْ) ‘আল্লাহুম্মার জুক্বনি’ হে আল্লাহ আপনি আমাকে রিজিক দান করুন। তখন আল্লাহ বলবেন, তোমাকে ইতমধ্যে রিজিক দান করেছি।’ (বায়হাকি)

> ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম’ জিকির করা

হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ বুখারির শেষ হাদিসে এ জিকির সন্নিবেশিত করা হয়েছে। এ জিকিরের বর্ণনা হাদিসে পাকে এভাবে তুলে ধরা হয়েছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দুটি কলেমা (বাণী) রয়েছে, যেগুলো দয়াময় আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়, উচ্চারনে খুবই সহজ আর (আমলের) পাল্লায় অত্যন্ত ভারী। (বাণী দু’টি হচ্ছে)-

سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيمِ

উচ্চারণ : সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম’

অর্থাৎ আমরা আল্লাহ তাআলার প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, মহান আল্লাহ অতীব পবিত্র।’ (বুখারি)

> সৎ চরিত্রবান হওয়া।

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে গুণ বর্ণনায় কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা আয়াত নাজিল করেছেন, তাহেলো- সৎ চরিত্র বা মহান চরিত্র। যে চরিত্রে থাকবে না কোনো গোনাহের চিন্তা। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে লক্ষ্য করে মহান আল্লাহ ঘোষণা দেন। আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।’ কেয়ামতের ময়দানে এ উত্তম চরিত্রের লোকদের আমলনামা হবে সাত আসমান ও সাত জমিনের চেয়ে ভারি।

এ সৎ চরিত্রের সংক্ষিপ্ত পরিচয় হলো-

– হালাল গ্রহণ করা।

– হারাম বর্জন করা। আর

– নিজ পরিবারের স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা ও ভাই-বোনের সঙ্গে উত্তম ও উদার ব্যবহার করা।

> নাবলক সন্তানের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ করা

অল্প বয়সে মৃত্যুবরণকারী সব শিশুই তার বাবা-মা ও আত্মীয় স্বজনের জন্য হবে নাজাতের ওসিলা। পরকালের আরাম লাভের অনুসঙ্গ এবং সুপারিশকারী। আর দুনিয়াতেও হবে সুখ ও সম্পদের অধিকারী। এ কারণেই নাবলক সন্তানের মৃত্যুতে এভাবে দোয়া করতে বলেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাহলো-

ছেলে শিশু হলে-

اَللهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطًا وَّاجْعَلْهُ لَنَا اَجْرًا وَّ ذُخْرًا وَّاجْعَلْهُ لَنَا شَافِعًا وَّمُشَفَّعًا

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাঝআলহু লানা ফারাত্বাও ওয়াঝআলহু লানা আঝরাও ওয়া জুখরাও ওয়াঝআলহু লানা শাফিআও ওয়া মুশাফ্‌ফাআ।’

মেয়ে শিশু হলে-

اَللهُمَّ اجْعَلْهَا لَنَا فَرَطًا وَّاجْعَلْهَا لَنَا اَجْرًا وَّ ذُخْرًا وَّاجْعَلْهَا لَنَا شَافِعَةً وَّمُشَفَّعَةً

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাঝআলহা লানা ফারাত্বাও ওয়াঝআলহা লানা আঝরাও ওয়া জুখরাও ওয়াঝআলহা লানা শাফিআতাও ওয়া মুশাফ্‌ফাআহ্‌।’

অর্থ : হে আল্লাহ! এ বাচ্চাকে আমাদের নাজাত ও আরামের জন্য আগে পাঠিয়ে দাও। তার জন্য যে দুঃখ তা আমাদের প্রতিদান ও সম্পদের কারণ বানিয়ে দাও। তাকে আমাদের জন্য সুপারিশকারী বানাও। যা তোমার দরবারে কবুল হবে।

সুতরাং কারো শিশু সন্তান (ছেলে-মেয়ে) মারা গেলে জানাযাসহ পরবর্তী সময়ে এ দোয়া বেশি বেশি পড়া জরুরি। এতে রয়েছে দুনিয়া ও পরকালের অনেক কল্যাণ ও সফলতা। আর তাতে আল্লাহ তাআলা শিশু সন্তানের আত্মীয়-স্বজনদের দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ এবং সফলতা দান করবেন।

> অন্যের জন্য দোয়া করে

নিজের জন্য দোয়া করার পর যারা মুমিন মুসলমান নারী-পুরুষের জন্য এভাবে দোয়া করে-

اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُؤْمِنِيْنَ وَ الْمُؤْمِنَات

‘আল্লাহুম্মাগফির লিলমুমিনিনা ওয়াল মুমিনাত।’

কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেও মুমিন মুসলমানের জন্য দোয়া করতে এভাবে নির্দেশ দিয়েছেন-

وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ

(হে রাসুল! আপনি) ক্ষমা প্রার্থনা করুন, আপনার নিজের জন্য এবং মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য।’ (সুরা মুহাম্মাদ : আয়াত ১৯)

> কেউ মারা গেলে জানাজায় অংশ গ্রহণ করা

জানায় অংশগ্রহণে রয়েছে অনেক সাওয়াব ও কল্যাণ। হাদিসের বর্ণনায় ওঠে এসেছে-

– হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মৃত মুসলিম ব্যক্তির জানাযায় ঈমানের সঙ্গে সাওয়াবের আশায় শরিক হয় এবং জানাজা ও দাফন পর্যন্ত থাকে, ওই ব্যক্তি দুই কেরাত নেকি পাবে। আর প্রতি কেরাত হচ্ছে ওহুদ পাহাড়ের সমান। আর যে জানাজা পড়ে দাফনের আগে ফিরে যাবে সে এক বেরাত নেকি নিয়ে (বাড়ি) ফিরবে।’ (বুখারি, মুসলিম)

> সাদকা করা

দান-সাদকা করা। তা একটি খেজুর কিংবা একটি খেজুরের গাছ হলেও। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘খেজুরের একটি অংশ দান করে হলেও তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা কর।’ (বুখারি ও মুসলিম)

> রাগ না করা

দুনিয়ার স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে নিজেদের রাগ থেকে বিরত থাকা। এ রাগ করা হবে মহান আল্লাহর জন্য। দুনিয়ার কোনো স্বার্থে নয়। তবেই এ রাগ পরকালের আমলনামায় কয়েকগুণ ভারি হবে। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলল, আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘রাগ করো না।’ লোকটি বার বার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে উপেদশ চায় আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘রাগ করো না।’ (বুখারি)

যেহেতু রাগ দমন করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। আর যে ব্যক্তি তা করতে সক্ষম হবে সেই দুনিয়া ও আখিরাতে কামিয়াব। রাগ দমনকারীদের প্রশংসায় আল্লাহ বলেন, ‘যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে, (তারাই মুহসিন বা সৎকর্মশীল) বস্তুতঃ আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরই ভালবাসেন। (সুরা ইমরান : আয়াত ১৩৪)

> দ্বীনের পথে দাওয়াত

আল্লাহর পথে অন্যকে ডাকা বা আহ্বান করা। যে ব্যক্তি মানুষকে মহান আল্লাহর পথে ডাকে বা আহ্বান করে সে ব্যক্তির আমলনামা হবে সাত আসমান ও সাত জমিন থেকে ভারি।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, উল্লেখিত চমৎকার ১০টি আমল যথাযথভাবে পালন করা। এর বিনিময়ে মহান আল্লাহ তাআলার কাছে দুনিয়ার সফলতা ও পরকালের চূড়ান্ত মুক্তির চেষ্টা করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত আমলগুলো যথাযথভাবে পালন করার মাধ্যমে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ ও সফলতা লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।