ঋণ পরিশোধ না করে হজ করলে কি হজ হবে?নিজের গ্রামের বাড়িতে গেলে কি কসর পড়তে হবে?ঈদুল ফিতর: নতুন জীবনের উদ্বোধন ১৭ রমজান, ঐতিহাসিক বদর দিবসপবিত্র আল-আকসা মসজিদের ইমাম শেখ মুহাম্মদ আলী আল-আব্বাসি গ্রেপ্তার
No icon

আরাফার দিন রোজা রাখার ফজিলত

আরাফার দিন বা ৯ই জিলহজ রোজা রাখা সুন্নত ও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। এ দিন রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আরাফার দিন কেউ রোজা রাখলে আমি আশাবাদী যে আল্লাহ তার পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। (সহিহ মুসলিম: ২৬১৭)আরাফার দিনের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, আরাফার দিনের মতো আর কোনো দিন এত অধিক পরিমাণে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় না। আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার নিকটবর্তী হন এবং বান্দাদের নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করেন। আল্লাহ বলেন, কী চায় তারা? (অর্থাৎ তারা যা চায়, তাই তাদের দেওয়া হবে) (সহিহ মুসলিম: ১৩৪৮)

নবীজির (সা.) আমল

নবীজি (সা.) আরাফার দিন এবং এর পূর্ববর্তী আটদিনও রোজা রাখতেন। জিলহজ মাসের এই নয়দিনের রোজা তিনি কখনও বাদ দিতেন না। উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রা.) বলেন, নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনো চারটি আমল পরিত্যাগ করেননি। সেগুলো হলো, আশুরার রোজা, জিলহজের প্রথম দশকের রোজা প্রতি মাসে তিন দিন রোজা, ও ফজরের পূর্বের দুই রাকাত নামাজ। (সুনানে নাসাঈ: ২৪১৬)

জিলহজের প্রথম নয়দিনের প্রত্যেকদিনই রোজা রাখার ফজিলত অনেক। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, এ দশকের প্রতি দিনের রোজা এক বছরের রোজার এবং এর প্রত্যেক রাতের নামাজ কদরের রাতের নামাজের সমতুল্য। (সুনানে তিরমিজি: ৭৫৮)

আরাফার রোজা কবে রাখতে হয়?

চাঁদ দেখার ভিন্নতা অনুসারে যে দেশে যেদিন জিলহজ মাসের ৯ তারিখ অর্থাৎ ঈদুল আজহার পূর্ববর্তী দিন, ওই দিনটিই ফজিলতপূর্ণ ‘আরাফার দিন’ গণ্য হয়। ওই দিন রোজা রাখলে উপরোক্ত সওয়াব ও ফজিলত লাভের আশা করা যায়।

এ বছর (১৪৪৭ হিজরি, ২০২৬ খৃষ্টাব্দ) বাংলাদেশে অবস্থানকারীদের জন্য আরাফার দিন হলো আগামী ২৭ মে, বুধবার। যারা আরাফার দিনের রোজা রাখতে চান, তারা মঙ্গলবার রাত থেকেই রোজা রাখার নিয়ত করবেন, শেষ রাতে সাহরি খেয়ে বুধবার রোজা রাখবেন।

হজ পালনকারীরা আরাফার রোজা রাখবেন?

নবীজি (সা.) হজ পালনের সময় আরাফার দিন রোজা রাখেননি। বিদায় হজের সময় আরাফার ময়দানে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোজা অবস্থায় আছেন কি না তা নিয়ে সাহাবিদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। এই সংশয় দূর করার জন্য রাসুলুল্লাহর (সা.) সামনে এক পেয়ালা দুধ পেশ করা হলো। তিনি সবার সামনে সেই দুধ পান করলেন। এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, বিদায় হজের দিন আরাফার ময়দানে নবীজি (সা.) রোজা রাখেননি। (সহিহ বুখারি: ১৬৬১)

সুতরাং আরাফার রোজা বা ৯ জিলহজের রোজা হজ পালনকারীদের জন্য সুন্নত নয়। যদি কোনো হজ পালনকারী মনে করেন যে, রোজা রাখলে তার শারীরিক কোনো সমস্যা হবে না এবং তিনি হজের অন্যান্য সব আমল সুন্দরভাবে পালন করতে পারবেন, তবে তার জন্য রোজা রাখা জায়েজ বা মুবাহ। কিন্তু হজ পালনকারীদের জন্য সুন্নত হলো আরাফার দিন রোজা না রাখা, যেন তারা পূর্ণ শক্তি নিয়ে হজের ইবাদত সম্পন্ন করতে পারেন।