
আত্মকেন্দ্রিকতা এমন এক মানসিক অবস্থার নাম, যেখানে ব্যক্তি নিজের চিন্তাভাবনা, অনুভূতি এবং চাওয়া-পাওয়াকে অধিক গুরুত্ব দেয়। অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক মানুষরা নিজের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই শুধু পৃথিবীকে দেখেন এবং অন্যদের মতামত বা আবেগের প্রতি সংবেদনশীল হতে প্রায়শই ব্যর্থ হন। আত্মীয়স্বজনের খোঁজ নেওয়া, প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ানো কিংবা মানুষের উপকারে আসার চেয়ে নিজের জগতে সীমাবদ্ধ থাকতে পছন্দ করেন। অন্যের প্রয়োজন ও কষ্টের প্রতি উদাসীন হলেও কৌশলে নিজের স্বার্থসিদ্ধির ব্যাপারে থাকেন অত্যন্ত সচেতন, যা মূলত ইসলামবিরোধী নীতি।
ইসলামের দৃষ্টিতে নিজেকে ভালোবাসা নিষিদ্ধ নয়; এটা মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। পবিত্র কোরআনে এ ব্যাপারে এসেছে, ‘এবং মানুষের মধ্যে কৃপণতা বিদ্যমান রয়েছে। ’(সুরা : নিসা, আয়াত : ১২৮)
আর প্রতিটি ব্যক্তি সাধারণত নিজ নিজ স্বার্থের খাতিরে কৃপণ ও লোভী হয়ে ওঠে। কিন্তু এই আত্মপ্রেম বা স্বার্থসচেতনতা এমন মাত্রায় হতে দেওয়া যাবে না, যা অন্যের অধিকার গ্রাস করে ফেলবে। বরং ইসলামের শিক্ষা হলো, মানুষ যেমন স্বভাবজাত কারণে নিজের কল্যাণ চায়, তেমনি অন্য ভাইয়ের কল্যাণ চাইতে হবে। এটাই ঈমানের দাবি। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের কেউ পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা ভালোবাসে, তার ভাইয়ের জন্যও তা ভালোবাসে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৩) লক্ষ্য করলে দেখা যায়, হাদিসে নিজের জন্য ভালোবাসাকে অস্বীকার করা হয়নি; বরং সেই ভালোবাসার পরিধি অন্যের কাছেও সম্প্রসারিত করতে বলা হয়েছে। এটাই ইসলামের সৌন্দর্য। অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিকতা ঈমানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেননা আত্মকেন্দ্রিক মানুষরা পৃথিবীর সবকিছুর ওপর নিজের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়।