
সাবিত (রহ.) থেকে বর্ণিত, আনাস (রা.) বলেন, একবার মহানবী (সা.) আমার কাছে এলেন, আমি তখন পাড়ার ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করছিলাম। তিনি এসে আমাদের সালাম দিলেন।
তিনি আমাকে কোনো একটা প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলেন। ফলে আমার মা আমাকে দীর্ঘক্ষণ দেখতে পান নি। আমি বাড়িতে ফিরলে আমার মা জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে? আমি বললাম, মহানবী (সা.) আমাকে তাঁর একটা কাজে পাঠিয়েছিলেন। মা বললেন, কোন কাজে? আমি বললাম, সেটা তো মহানবী (সা.)-এর ব্যক্তিগত বিষয়।
তখন মা আমাকে বললেন, মহানবী (সা.)-এর গোপন বিষয় কারও কাছে তুমি প্রকাশ করবে না। তারপর আনাস (রা.) বলেন, ওয়াল্লাহি, (আল্লাহর কসম) হে সাবিত, আমি যদি এ বিষয়ে কাউকে কিছু বলতাম, তাহলে তোমাকে বলতাম। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৬৩৭৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১২০৬০)
শিক্ষা ও বিধান
১. মহানবী (সা.) শিশুদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ছিলেন। তিনি আনাস (রা.) ও তাঁর সাথীদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সালাম দিয়েছেন।
২. শিশুদেরও সালাম দেওয়ার মাধ্যমে মহানবী (সা.) উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, সালাম শুধু বড়দের জন্য নয়; ছোট-বড় সকল মুসলমানের মধ্যে সালামের প্রচলন করা সুন্নত।
৩. আনাস (রা.) মহানবী (সা.)-এর গোপন বিষয় প্রকাশ করেননি। এটি প্রমাণ করে যে, কারও ব্যক্তিগত বা আমানতস্বরূপ কথা অন্যের কাছে প্রকাশ করা বৈধ নয়।
৪. আনাস (রা.)-এর মা তাঁকে জিজ্ঞাসা করার পর যখন জানলেন এটি মহানবী (সা.)-এর ব্যক্তিগত বিষয়, তখন তিনি তা জানার জন্য চাপ দেননি; বরং গোপনীয়তা রক্ষার শিক্ষা দিয়েছেন। এটি আদর্শ অভিভাবকত্বের দৃষ্টান্ত।
৫. আনাস (রা.) মায়ের কাছে মিথ্যা অজুহাত দেননি; বরং সত্য বলেছেন যে তিনি মহানবী (সা.)-এর কাজে গিয়েছিলেন। একজন মুমিন সর্বদা সত্য কথা বলবে।
৬. আনাস (রা.) বহু বছর পরও সেই গোপন বিষয় প্রকাশ করেননি। এটি সাহাবায়ে কেরামের আমানতদারি, তাকওয়া ও নবী ﷺ-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধার পরিচয় বহন করে।
৭. অপ্রয়োজনীয় কৌতূহল পরিহার করা জরুরি। অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় জানার জন্য অতিরিক্ত আগ্রহ বা অনুসন্ধান করা ইসলামের আদর্শ নয়।