
নারীর জায়েজ সৌন্দর্যচর্চা ও সাজসজ্জা ইসলামে প্রশংসনীয়। স্ত্রী যদি স্বামীর সামনে সুন্দর রূপে উপস্থিত হওয়ার জন্য সাজসজ্জা করেন, তাহলে তা জায়েজ তো বটেই, সেজন্য তিনি সওয়াবও লাভ করবেন। হাদিসে এসেছে, একজন পুণ্যময়ী স্ত্রীর অন্যতম সেরা গুণ হলো স্বামীর দৃষ্টি তার ওপর পড়লে স্বামীকে তিনি আনন্দিত করেন।
আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলতেন, কোনো মুমিন ব্যক্তি আল্লাহভীতির পর উত্তম যা লাভ করে, তা হলো পুণ্যময়ী স্ত্রী। স্বামী তাকে কোনো নির্দেশ দিলে সে তা পালন করে; সে তার দিকে তাকালে (তার বাহ্যিক সাজসজ্জা ও চরিত্রের মাধুর্য) তাকে আনন্দিত করে, সে তাকে শপথ করে কিছু বললে সে তা পূর্ণ করে এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে সে তার সম্ভ্রম ও সম্পদের হেফাজত করে। (সুনানে ইবন মাজা)
তবে সাজগোজের ক্ষেত্রে শরিয়তের সীমা মেনে চলতে হবে। অপচয় করা যাবে না। পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা যাবে না। সাজসজ্জার হারাম উপকরণ বা পন্থা গ্রহণ করা যাবে না। শরিয়তের সীমার ভেতরে থেকে নিজের ঘরে সাজসজ্জা যেমন জায়েজ, বিউটি পার্লারে গিয়ে সাজসজ্জা করাও জায়েজ।
যেসব শর্তে বিউটি পার্লারে গিয়ে সাজগোজ করা জায়েজ
১. পার্লারের পরিবেশ শরিয়তসম্মত হওয়া
পার্লারটি সম্পূর্ণ পর্দাঘেরা ও নারী পরিবেষ্টিত হতে হবে। সেখানে কোনো পুরুষ কর্মী বা গায়রে মাহরাম পুরুষের যাতায়াত কিংবা দেখার সুযোগ থাকা যাবে না।
২. বৈধ ও হালাল সামগ্রীর ব্যবহার
সাজসজ্জার ক্ষেত্রে কেবল ক্রিম, লোশন ও হালাল কসমেটিকস ব্যবহার করতে হবে। শরীরে ক্ষতিসাধন করে কিংবা যাতে হারাম বা নাপাক উপাদান মিশ্রিত রয়েছে এমন কোনো উপাদান ব্যবহার করা যাবে না।
৩. সাজসজ্জার সঠিক উদ্দেশ্য ও নিয়ত
পরপুরুষের সামনে সৌন্দর্য প্রদর্শন কিংবা অহংকার প্রকাশের উদ্দেশ্যে সাজগোজ করা যাবে না।
৪. অপচয় থেকে বেঁচে থাকা
সাহজগোজের ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করতে হবে। বাড়াবাড়ি ও অপব্যয় থেকে বিরত থাকতে হবে।
৫. আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত না করা
পার্লারে গিয়ে হারাম পন্থায় সাজগোজ করা যাবে না যেমন ভ্রু প্লাক করা, উল্কি আঁকা বা দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করা ইত্যাদি।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আল্লাহর অভিশাপ হোক সেই সব নারীদের ওপর, যারা অন্যের দেহাংশে উল্কি (ট্যাটু) অঙ্কন করে, নিজ দেহাংশে অন্যের মাধ্যমে উল্কি করায়, ভ্রু চেঁছে সরু (প্লাক) করে এবং সৌন্দর্যের মানসে দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে অর্থাৎ যারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করে। (সহিহ বুখারি)
৬. পুরুষের বা অমুসলিমদের বেশ ধারণ না করা
সাজসজ্জার মাধ্যমে নারী পুরুষের বেশ ধারণ করতে পারবে না এবং ফাসেক বা অমুসলিম নারীদের অন্ধ অনুকরণ করা যাবে না।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুরুষদের মধ্যে নারীর বেশ ধারণকারীদের ও নারীদের মধ্যে পুরুষের বেশ ধারণকারিণীদের অভিশাপ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি)
৭. ক্ষতিকর প্রসাধন ব্যবহার না করা
ত্বকে স্থায়ী ক্ষতি করে এমন কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক প্রসাধন ব্যবহার করা যাবে না। ইসলামে অন্যের ক্ষতি করা যেমন নিষিদ্ধ, নিজের ক্ষতি করাও নিষিদ্ধ।