নিজের গ্রামের বাড়িতে গেলে কি কসর পড়তে হবে?ঈদুল ফিতর: নতুন জীবনের উদ্বোধন ১৭ রমজান, ঐতিহাসিক বদর দিবসপবিত্র আল-আকসা মসজিদের ইমাম শেখ মুহাম্মদ আলী আল-আব্বাসি গ্রেপ্তার ক্ষমাকারীদের আল্লাহপাক ভালোবাসেন
No icon

জান্নাতে গিয়েও কি মানুষ আফসোস করবে?

প্রশ্ন: অনেককে বলতে শোনা যায়, জান্নাতে গিয়েও মানুষ আফসোস করবে যে, কেন আরও বেশি আমল করে আরও বেশি মর্যাদার অধিকারী হলো না। কথাটা কি ঠিক?

উত্তর: জান্নাতে গিয়ে মানুষ আফসোস করবে এই কথাটি সঠিক নয়। আফসোস এক ধরনের মানসিক কষ্ট আর জান্নাতে শারীরিক বা মানসিক কোনো কষ্ট থাকবে না। আল্লাহ তাআলা জান্নাতবাসীর অবস্থা বর্ণনা করে বলেন, (জান্নাতবাসী বলবে,) এখানে আমাদেরকে কোনো কষ্ট স্পর্শ করবে না, কোনো ক্লান্তিও দেখা দেবে না। (সুরা ফাতির: ৩৫)

এক হাদিসে মুআজ ইবনে জাবালের (রা.) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, জান্নাতবাসী কেবলমাত্র ওই সময়ের ব্যাপারে আফসোস করবে, যে সময়টি তাদের আল্লাহর স্মরণ-বিহীন কেটেছে। (আল-মুজামুল কাবির লিত তবারানি: ১৮২)

হাদিসটি বিশুদ্ধ কিনা এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। হাদিসটিকে বিশুদ্ধ ধরে নেওয়া হলেও এর অর্থ হলো, জান্নাতে প্রবেশ করার আগে বিচার দিবসে জান্নাতে যাবে এমন মানুষও আল্লাহর স্মরণ-বিহীন কাটানো সময়ের জন্য আফসোস করবে।

হাফেয মুনাবি (রহ.) ফায়যুল কাদির গ্রন্থে এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, এ আফসোস কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর সময় হবে, জান্নাতে যাওয়ার পর নয়। (ফায়যুল কাদির: ৫/৩৯০)

অর্থাৎ হাদিসটিকে বিশুদ্ধ ধরে নেওয়া হলেও এর মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করার পর আফসোস করার বিষয়টি প্রমাণিত হয় না। সুতরাং কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী আমরা বলতে পারি, জান্নাতে প্রবেশ করার পরে জান্নাতিদের মধ্যে আফসোস বলতে কিছু থাকবে না।