→ রিজিক বৃদ্ধির শ্রেষ্ঠ আমল→ নখ কাটার পর অজু না করে নামাজ পড়া যাবে?→ মাটির নিচে আল্লাহর সৃষ্টির বিস্ময়→ বাংলাদেশিদের জন্য সউদীর নতুন প্যাকেজ ভিসা চালু→ অবশেষে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইরানের নিহত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
No icon

মসজিদে নববীর জুমার খুতবার সারসংক্ষেপ

উত্তম চরিত্র ও সুন্দর কথাবার্তা মুমিনের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ। সদয় বাক্য মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা সৃষ্টি করে, পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করে এবং বিবাদ-বিসংবাদ দূর করে। অন্যদিকে, কঠোর ও অশালীন কথা মানুষের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই কথা বলার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম শব্দ বেছে নেওয়া এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করে চলার আহ্বান জানিয়েছেন পবিত্র মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ ড. খালিদ আল-মুহান্না।

 

গতকাল (শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬) মদিনার মসজিদে নববিতে জুমার খুতবায় তিনি এসব কথা বলেন। খুতবায় তিনি তাকওয়ার গুরুত্ব, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুপম চরিত্র, উত্তম কথার মর্যাদা এবং মানুষের সঙ্গে সদয় আচরণের ফজিলত তুলে ধরেন। শায়খ খালিদ আল-মুহান্না বলেন, আল্লাহভীতি এমন এক মহৎ গুণ, যা মানুষের অন্তরের গোপন বিষয়কে পবিত্র রাখে, প্রকাশ্য আচরণকে সুন্দর করে এবং জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়। তাকওয়াই প্রকৃত সুখের পথ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সর্বোত্তম পাথেয়। এ প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা লাইলের ৫-৭ নম্বর আয়াতের মর্ম তুলে ধরেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, যে ব্যক্তি দান করে, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম প্রতিদানকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, তার জন্য তিনি সহজ পথ সুগম করে দেন। মসজিদে নববির ইমাম বলেন, মুসলিম উম্মাহর প্রতি আল্লাহর অন্যতম বড় অনুগ্রহ হলো, তিনি তাদের এমন জীবনাদর্শ দিয়েছেন, যা অনুসরণ করলে মানুষের চরিত্র, কথা ও কাজ সুন্দর হয়ে ওঠে। এই আদর্শের সর্বোৎকৃষ্ট নমুনা হলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানবজাতির মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। তাঁর জীবন ছিল উত্তম আচরণ, মার্জিত কথাবার্তা, কোমলতা ও প্রজ্ঞার অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে একজন মুমিন নিজের চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করতে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারেন। 

শায়খ আল-মুহান্না বলেন, মহানবী (সা.)-এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম ছিল তাঁর অসাধারণ বাগ্মিতা, মধুর কথাবার্তা, মনোমুগ্ধকর আচরণ এবং বিচক্ষণতা। তিনি কখনো অকারণে কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। বরং মানুষকে সুসংবাদ দিতেন, কোমলভাবে উপদেশ দিতেন এবং প্রয়োজনের সময়ও মার্জিত ভাষায় সংশোধন করতেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) উচ্চকণ্ঠ, অশ্লীলভাষী কিংবা অভদ্র ছিলেন না। তাঁর কথা ও কাজ উভয়ই ছিল পরিপূর্ণ সৌন্দর্য ও মহত্ত্বের প্রতিফলন। তাই তাঁর সুন্নাহ অধ্যয়ন করলে দেখা যায়, তিনি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও ইতিবাচক শব্দ পছন্দ করতেন। ভালো নাম পছন্দ করতেন এবং মন্দ অর্থবোধক নাম অপছন্দ হলে তা পরিবর্তন করে দিতেন। পবিত্র কোরআনে জান্নাতবাসীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘আর তাদের পবিত্র বাক্যের দিকে পরিচালিত করা হয়েছিল।’ (সুরা : হাজ, আয়াত : ২৪)

তিনি ব্যাখ্যা করেন, উত্তম কথার সর্বোচ্চ পর্যায় হলো তাওহিদ ও ইখলাসের বাণী—‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। এর পাশাপাশি আল্লাহর জিকির, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, তাঁর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা এবং কল্যাণকর জ্ঞানচর্চাও উত্তম কথার অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে, মানুষের উপকারে আসে, কল্যাণের শিক্ষা দেয় কিংবা মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সংশোধনের পরিবেশ সৃষ্টি করে—এমন প্রতিটি কথাই উত্তম কথার মর্যাদা পেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি পবিত্র ও উত্তম বিষয়ই গ্রহণ করেন। তাই একজন মুমিনের কথাবার্তায় সত্যবাদিতা, শালীনতা, আন্তরিকতা ও কল্যাণের প্রতিফলন থাকা উচিত। অশ্লীলতা, কুরুচিপূর্ণ ভাষা, পরনিন্দা ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য থেকে দূরে থাকাই মুমিনের পরিচয়। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলনামায় উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী কোনো বস্তু থাকবে না। আর আল্লাহ অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহারকারী ব্যক্তিকে অপছন্দ করেন। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২০০২)

শায়খ খালিদ আল-মুহান্না মুসলিমদের রাগের সময় নিজেদের সংযত রাখার এবং অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, উত্তেজনার মুহূর্তে মানুষ অনেক সময় এমন কথা বলে ফেলে, যার জন্য পরে অনুতপ্ত হতে হয়। তাই রাগের সময় জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং উত্তম শব্দ বেছে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সালাম দেওয়া ও তার উত্তর দেওয়া, উপকারী জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া, মানুষকে ভালো কাজে উৎসাহিত করা এবং বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দেওয়া—এসবই উত্তম কথার উদাহরণ। যে কথা মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যে নিয়ে যায় এবং মানুষের উপকার করে, তা কল্যাণের অন্তর্ভুক্ত।