কঠিন কাজ সহজ হওয়ার দোয়ানারীরা নিজের নামের সঙ্গে স্বামীর নাম যুক্ত করতে পারবে?দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণ কি ব্যভিচারমুক্ত থাকার উপায়?বেশি বেশি সালাম আদান-প্রদান করবেন কেন?অনুমান করে কথা বলার পর করণীয় কী?
No icon

দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণ কি ব্যভিচারমুক্ত থাকার উপায়?

ইসলামে ব্যভিচার মারাত্মক গুনাহ। ইসলামি শরিয়াহ মতে মানুষের চারটি অঙ্গের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলেই বাস্তবে অনেক গুনাহ ও ব্যভিচারের মতো পাপ থেকে নিজেদের মুক্ত রাখা খুবই সহজ। আর তাতে ঈমানি শক্তিও বৃদ্ধি পাবে। তন্মধ্যে চোখ ও দৃষ্টিশক্তি একটি।

হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সময় উম্মতে মুসলিমাহকে চোখের হক আদায় করার কথা বলতেন। চলাফেরা, ওঠাবসায় চোখ ও দৃষ্টিশক্তি সংযত করার কথা বলতেন। কারণ মানুষের জন্য চোখ ও দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তা রক্ষা করা লজ্জাস্থানকে রক্ষা করার শামিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

غُضُّوْا أَبْصَارَكُمْ، وَاحْفَظُوْا فُرُوْجَكُمْ তোমরা তোমাদের চোখকে নিচু করে রাখ এবং লজ্জাস্থানের হেফজত করো।(মুসনাদে আহমাদ,মুসতাদরাকে হাকেম, ইবনে হিব্বান, বায়হাকি)

হঠাৎ ঘটনাক্রমে কোনো হারাম বস্তুর উপর চোখ পড়ে গেলে তা তড়িঘড়ি ফিরিয়ে নিতে হবে। চোখ বা দৃষ্টি সরাতে দেরি করা যাবে না। এমনকি দ্বিতীয়বার কিংবা একদৃষ্টে ওদিকে তাকিয়ে থাকাও যাবে না। হাদিসের বর্ণনা থেকে তা প্রমাণিত-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে উদ্দেশ্য করে বলেন-

يَا عَلِيُّ! لَا تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ، فَإِنَّ لَكَ الْأُوْلَى، وَلَيْسَتْ لَكَ الْآخِرَةُ হে আলি! বার বার দৃষ্টি ক্ষেপণ করো না। কারণহঠাৎ দৃষ্টিতে তোমার কোনো দোষ নেই। তবে ইচ্ছাকৃত দ্বিতীয় দৃষ্টি অবশ্যই দোষের। (আবু দাউদ, তিরমিজি, মুসনাদে<আহমাদ, মুসতাদরাকে হাকেম, বায়হাকি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসংযত (হারাম) দৃষ্টিকে চোখের জেনা বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমনিভাবে কোনো ব্যক্তির হাত, পা, মুখ, কান, মনও ব্যভিচার করে থাকে। তবে এসবের মধ্যে মারাত্মক হচ্ছে লজ্জাস্থানের ব্যভিচার। যাকে বাস্তবেই ব্যভিচার বলা হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

إِنَّ اللهَ كَتَبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ حَظَّهُ مِنَ الزِّنَا، أَدْرَكَ ذَلِكَ لَا مَحَالَةَ، فَزِنَا الْعَيْنَيْنِ النَّظَرُ، وَزِنَا اللِّسَانِ الْـمَنْطِقُ، وَالْيَدَانِ تَزْنِيَانِ فَزِنَاهُمَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلَانِ تَزْنِيَانِ فَزِنَاهُمَا الْـمَشْيُ، وَالْفَمُ يَزْنِيْ فَزِنَاهُ الْقُبَلُ، وَالْأُذُنُ زِنَاهَا الِاسْتِمَاعُ، وَالنَّفْسُ تَمَنَّى وَتَشْتَهِيْ، وَالْفَرْجُ يُصَدِّقُ ذَلِكَ وَيُكَذِّبُهُ./p> নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক আদম সন্তানের জন্য জেনার কিছু অংশ বরাদ্দ করে রেখেছেন। যা সে অবশ্যই করবে। (যেমন)- চোখের জেনা হচ্ছে অবৈধভাবে কারোর দিকে দৃষ্টি দেওয়া। মুখের জেনা হচ্ছে অশ্লীল কথোপকথন করা। হাতও ব্যভিচার করে, তবে তার ব্যভিচার হচ্ছে অবৈধভাবে কাউকে হাত দিয়ে ধরা। পা-ও ব্যভিচার করে, তবে তার ব্যভিচার হচ্ছে কোনো ব্যভিচারের ঘটনায় জড়িত হতে কোথাও পায়ে হেঁটে যাওয়া। মুখও ব্যভিচার করে, তবে তার ব্যভিচার হচ্ছে অবৈধভাবে কাউকে চুমু দেওয়া। কানের ব্যভিচার হচ্ছে অশ্লীল কথা শোনা। মনও ব্যভিচারের কামনা-বাসনা করে। আর তখনই লজ্জাস্থান তা বাস্তবায়ন করে থাকে। (আবু দাউদ)

মনে রাখা জরুরি

দৃষ্টিশক্তির কুফল হচ্ছে- আফসোস, ঊর্ধ্বশ্বাস ও অন্তরজ্বালা। কারণ, মানুষ যা চায় তার সবটুকু সে কখনোই পায় না। আর তখনই তার ধৈর্যচ্যুতি ঘটে।তাছাড়া চোখ বা দৃষ্টিশক্তিই সব অঘটনের মূল। কারণ, চোখ কোনো কিছু দেখার পরই তা মনে জাগে। মনে জাগলে তার প্রতি চিন্তা আসে। চিন্তা আসলে অন্তরে তাকে পাওয়ার কামনা-বাসনা জন্মে। কামনা-বাসনা জন্মানোর ফলেই তাকে খুব কাছে পাওয়ার ইচ্ছে হয়। দীর্ঘ দিনের ইচ্ছে প্রতিজ্ঞার রূপ ধারণ করে। আর তখনই কোন কর্ম সংঘটিত হয়। এ ধারাবাহিক কাজগুলোর মধ্যে যদি কোনো ধরনের বাধা না থাকে।মানুষের দৃষ্টি যদি খারাপ হয় তবে তা সব সীমাকেই অতিক্রম করে ফেলে। কারণ দৃষ্টি হচ্ছে তীরের মতো। যা মানুষের অন্তরকে নাড়া দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে। দৃষ্টির এ আঘাতের ফলেই মানুষের ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়। একবার দৃষ্টি খারাপ হয়ে গেলে তা ফিরে আসা খুবই কঠিন।সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, ব্যভিচারের মতো মারাত্মক অপরাধ থেকে বেঁচে থাকতে প্রথমেই নিজেদের চোখ ও দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণ খুবই জরুরি। যেমনটি ওঠে এসেছে হাদিসের বর্ণনায়।আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নিজের চোখ ও দৃষ্টিশক্তির হেফাজত করার তাওফিক দান করুন। নিজেদেরকে চোখ ও দৃষ্টির কুফল থেকে মুক্ত রাখুন। আমিন।