প্রয়োজন পূরণ ও দুশ্চিন্তা দূর করার নামাজপড়ালেখা-পরীক্ষা শুরু করতে কোনো দোয়া আছে কি?যেসব মানুষের জন্য আল্লাহর সাহায্য অবধারিতঋণের টাকায় হজ করা যাবে কি?কবরে মৃত ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা শুরু হয় কখন?
No icon

রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার প্রতিদান

রোগাক্রান্ত হলেই আল্লাহ মানুষের গুনাহ মাফ করে দেন। মানুষের গুনাহ মাফ করে দেওয়ার জন্য তিনি অনেক উপায় অবলম্বনের উপদেশ দিয়েছেন। রোগাক্রান্ত হলে যেখানে গুনাহ মাফ হয় সেখানে কেউ যদি রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায় বা রোগ ভোগ করে মারা যায় তাহলে তার প্রতিদান কী? এ সম্পর্কে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কী বলেছেন?

হ্যাঁ, এ কথা সত্য যে, আল্লাহ তাআলা মানুষকে বিভিন্ন উসিলায় গুনাহ থেকে মুক্তি দেবেন। হাদিসের একাধিক বর্ণনা থেকে তা প্রমাণিত যে, বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট, রোগ-ব্যাধিসহ যে কোনো দুঃশ্চিন্তা-ভাবনায়ও গুনাহ মাফ হয়। মুমিন মুসলমান রোগাক্রান্ত হলেই যেখানে গুনাহ মাফ হয় সেখানে কেউ যদি রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায় বা রোগ ভোগ করে মারা যায় তাহলে তো তারও গুনাহ মাফ হওয়া স্বাভাবিক। নবিজি বলেছেন ভিন্ন কথা। এ বিষয়টিসহ হাদিসে রোগাক্রান্ত ব্যক্তির গুনাহ মাফ সম্পর্কে একাধিক হাদিসে এসেছে-

১. হজরত আনাস ইবন মালিক বর্ণনা করেছেন যে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- مَا مِنْ مُسْلِمٍ ابْتَلَاهُ اللهُ فِىْ جَسَدِه إِلَّا كُتِبَ لَه مَا كَانَ يَعْمَلُ فِىْ صِحَّتِه، مَا كَانَ مَرِيضًا فَإِنْ عَافَاهُ أُرَاهُ قَالَ : غَسَلَه وَإِنْ قَبَضَه غَفَرَ لَه যে কোনো মুসলিমকে আল্লাহ যখন দৈহিকভাবে পরীক্ষায় ফেলে দেন (রোগগ্রস্ত করেন) তার সুস্থাবস্থায় সে যেরূপ আমল করতো ঠিক সেরূপ সওয়াবই তার আমলনামায় লিখিত হয় যতক্ষণ পর্যন্ত সে ব্যক্তি এরূপ রোগে আক্রান্ত থাকে। এরপর যদি তিনি তাকে নিরোগ করেন তবে আমার যতদূর মনে পড়ে তিনি বলেছেন তাকে তিনি (তার পাপ) ধৌত করে দেন। অর্থাৎ তাকে গুনাহ থেকে মুক্তি করে দেন আর যদি তাকে মৃত্যু প্রদান করেন তবে তাকে ক্ষমা করে দেন। (ইবনু হিব্বান আদাবুল মুফরাদ)

২. হজরত আবু সাঈদ খুদরি ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুসলমানের প্রতি যখন কোনো বিপদ, কোনো রোগ, কোনো ভাবনা, কোনো চিন্তা, কোনো কষ্ট বা কোনো দুঃখ পৌঁছে; এমনকি তার শরীরে কোনো কাঁটা ফুটলেও তা দ্বারা আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।(বুখারি, মুসলিম)

৩. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ যার ভালো চান তাকে বিপদগ্রস্ত করেন। (বুখারি)

৪. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে উপস্থিত হলাম। তখন তিনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কঠিন জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ! তোমাদের দুইজনের সমপরিমাণ জ্বর আমার হয়। আমি বললাম, আপনারা তো দ্বিগুণ নেকি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ আসল কারণ তাই। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, কোনো মুসলিমের প্রতি যে কোনো কষ্ট আসুক না কেন, চাই সেটা অসুস্থতা বা অন্য কিছুই হোক। আল্লাহ তাআলা এর দ্বারা গুনাহসমূহ ঝেড়ে দেন; যেমনিভাবে গাছ তার পাতা ঝেড়ে ফেলে। (বুখারি, মুসলিম)

সুতরাং অসুস্থ কিংবা রোগাক্রান্ত হলে দুঃশ্চিন্তা করার কিছু নেই। মুমিন মুসলমানের রোগাক্রান্ত হলে গুনাহ থেকে মুক্তি পান। আর যে বা যারা রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যান আল্লাহ তাআলা তাদের ক্ষমা করে দেন।

আল্লাহ তাআলা রোগাক্রান্ত সব মুমিন মুসলমানের গুনাহ মাফ করে দিন। যারা রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যান তাদের ক্ষমা করে দিন। আমিন।