ক্ষমাকারীদের আল্লাহপাক ভালোবাসেন ইব্রাহিমি মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলওমরাহ যাত্রীদের জন্য নতুন নিয়ম জারি মক্কায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জড়িয়ে ধরলেন ফারহানআগামী রমজানের সম্ভাব্য তারিখ জানালেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা
No icon

দরুদ শরিফের গুরুত্ব ও ফজিলত

দরুদ পাঠ করলে অশেষ সাওয়াব, রহমত, বরকত লাভ হয়। রাসুলের (সা.) ওপর দরুদ পড়তে খোদ আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি সালাত ও দরুদ পেশ করেন। হে মুমিনরা, তোমরাও তার প্রতি সালাত পেশ করো এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও। (সুরা আহজাব, আয়াত: ৫৬)

নবীজির নাম শোনার পর যদি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পড়া না হয়, তাহলে গুনাহগার হতে হবে। কোনো আলোচনায় বা মাহফিলে যদি নবীজির নাম উচ্চারণ করা হয়, তবে প্রথমবার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলা ওয়াজিব। এরপর যতবার তার নাম নেওয়া হবে, ততবার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলা মুস্তাহাব।দরুদ পাঠের গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে বেশ কিছু হাদিসেও। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত; রাসুল (সা.) বলেছেন, যে আমার ওপর একবার দরুদ পড়ে, আল্লাহ তার ওপর ১০ বার রহমত নাজিল করেন। (সহিহ মুসলিম: ৭৯৭)

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত; রাসুল (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি আমার সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী হবে, যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমার ওপর দরুদ পড়বে। (সুনানে তিরমিজি: ৪৮৪)

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত; রাসুল (সা.) বলেছেন, যে আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ওপর ১০টি রহমত নাজিল করবেন, তার ১০টি পাপ ক্ষমা করা হবে এবং মর্যাদার ১০টি স্তর বাড়িয়ে দেওয়া হবে। (সুনানে নাসাঈ: ১২৯৭)

রাসুল (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমার ওপর সকাল ও সন্ধ্যায় ১০ বার করে দরুদ পাঠ করে, সে কেয়ামতের দিন আমার সুপারিশ লাভ করবে। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, হাদিস: ১৭০২২)

আওস ইবনে আওস (রা.) থেকে বর্ণিত; রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হচ্ছে জুমার দিন। সুতরাং ওই দিন তোমরা আমার ওপর বেশি করে দরুদ পড়ো। কেননা তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়। সাহাবিরা বললেন, আল্লাহর রাসুল, আপনি তো (মারা যাওয়ার পর) পচে-গলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন, সে ক্ষেত্রে আমাদের দরুদ কীভাবে আপনার কাছে পেশ করা হবে? তিনি বললেন, আল্লাহ মাটির জন্য নবীদের দেহ খাওয়া হারাম করে দিয়েছেন। (সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৭)

আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেছেন, সেই ব্যক্তির নাক ধুলোধূসরিত হোক, যার কাছে আমার নাম উল্লেখ করা হলো; অথচ সে (আমার নাম শুনেও) আমার প্রতি দরুদ পড়ল না। (সুনানে তিরমিজি: ৩৫৪৫)

আবু মুহাম্মাদ কাব ইবনে উজরা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) একবার আমাদের কাছে এলেন। আমরা বললাম, আল্লাহর রাসুল, আপনার প্রতি কীভাবে সালাম পেশ করতে হয় তা জেনেছি; কিন্তু আপনার প্রতি দরুদ কীভাবে পাঠাব? তিনি বললেন, তোমরা বলো, আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ, ও আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা আলে ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুন মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদ, ও আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা আলে ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুন মাজিদ।