মানবজীবন নানা ধরনের রোগ-ব্যাধি, দুঃখ-কষ্ট ও অস্থিরতার মধ্যে আবর্তিত হয়। কখনো শারীরিক অসুস্থতা, কখনো মানসিক অশান্তি। তাই মানুষ সর্বদা প্রকৃত আরোগ্যের পথ খুঁজে ফেরে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান যেখানে শুধু দেহের চিকিৎসার কথা বলে, সেখানে দেহ-আত্মা ও হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য আল্লাহ তাআলা আমাদের দান করেছেন মহাগ্রন্থ আল-কোরআন, যা শুধু হেদায়াতই নয়, বরং ‘শিফা’ বা আরোগ্যের উৎস হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ আলেমরা বলেন, কোরআনে এমন কিছু আয়াত আছে, যেগুলো তিলাওয়াতের মাধ্যমে মানুষের অন্তরে প্রশান্তি নেমে আসে, দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হয় এবং আল্লাহর রহমতে রোগমুক্তির পথ সুগম হয়। আয়াতগুলো হলো-
১. আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِينَ
উচ্চারণ : ওয়া ইয়াশফি সুদুরা কাওমিম মুমিনীন
অর্থ : ‘আর তিনি মুমিনদের বুকসমূহকে শিফা দান করবেন।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১৪)
২. আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ
উচ্চারণ : ওয়া শিফাউল লিমা ফিসসুদুরি ওয়া হুদাও ওয়া রাহমাতুল লিল মুমিনিন।
অর্থ : এবং অন্তরের রোগের নিরাময়, হেদায়েত ও রহমত মুসলমানদের জন্য।
(সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৫৭)
৩. আল্লাহ তাআলা বলেন,
قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ
উচ্চারণ : কুল হুওয়া লিল্লাজিনা আমানু হুদাওঁ ওয়া শিফা।
অর্থ : বলুন, এটা বিশ্বাসীদের জন্য হেদায়েত ও রোগের প্রতিকার। (সুরা : হামিম, আয়াত : ৪৪)
৪. আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِلنَّاسِ
উচ্চারণ : ইয়াখরুজু মিমবুতু-নিহা শারাবুম মুখতালিফুন, আলওয়ানুহু ফিহি শিফা-উনলিন্নাস।
অর্থ : তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়।
তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৬৯)
৫. আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ
উচ্চারণ : ওয়া নুনাজজিলু মিনাল কোরআনি মা হুয়া শিফাউঁ ওয়া রাহমাতুল লিল মুমিনিন
অর্থ : ‘আমি কোরআনের এমন কিছু অবতীর্ণ করি, যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৮২)
৬. ইবরাহিম (আ.) বলেন,
وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
উচ্চারণ : ওয়া ইযা মারিদতু ফা হুয়া ইয়াশফীন
অর্থ : ‘আর আমি যখন অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে শিফা দান করেন।’ (সুরা : শুআরা, আয়াত : ৮০)
