প্রতিশোধের অন্তর্নিহিত তাগিদকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুনকোরবানিদাতার জন্য যেসব কাজ নিষিদ্ধনামাজ শেষে সালাম ফেরানোর পর জিকির ও দোয়াহজে সাফা-মারওয়া ‘সায়ী’র নিয়মবন্যার্তদের সেবায় ইসলামের নির্দেশনা
No icon

কঠিন রোগ ও পরিস্থিতিতে আল্লাহর কাছে ধরনা

নতুন নতুন রোগ-ব্যাধি, মহামারিসহ কঠিন অসুস্থতা এবং পরিস্থিতিতে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনার বিকল্প নেই। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে দুরারোগ্য, মহামারি ও কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পড়তে সহজ ছোট্ট একটি দোয়া করতে বলেছেন। কী সেই দোয়া?

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন-

اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَ الْجُنُوْنِ وَ الْجُذَامِ وَمِنْ سَىِّءِ الْاَسْقَامِ উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাচি ওয়াল জুনুনি ওয়াল ঝুজামি ওয়া মিন সায়্যিয়িল আসক্বাম।

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার কাছে আমি শ্বেত রোগ থেকে আশ্রয় চাই। মাতাল হয়ে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই। কুষ্ঠু রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে আশ্রয় চাই। আর দুরারোগ্য ব্যাধি (যেগুলোর নাম জানিনা) থেকে আপনার আশ্রয় চাই। (আবু দাউদ, তিরমিজি)

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছোট্ট এ দোয়ায় ৪টি বিষয় থেকে আশ্রয় চেয়েছেন। তাহলো-

১. শ্বেত রোগ থেকে আশ্রয়। এটি কঠিন ব্যাধি।

২. মাতাল হওয়া থেকে আশ্রয়। এটি প্রত্যেক মানুষের জন্য একটি কঠিন পরিস্থিতি।

৩. কুষ্ঠু রোগের মতো মহামারী থেকে আশ্রয়। এ ছাড়াও

৪. নাম না জানা যত মহামারী আছে তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা।

\নবিজীর দোয়া করার কারণ\

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সব ব্যাধি থেকে আল্লাহর কাছে এই জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন যে,  এই সব ব্যাধি হলো কঠিন ভয়াবহ। মানুষ এই সব ব্যাধিকে খুব ঘৃণিত ও কঠিন ব্যাধি মনে করে; কেননা এই সব ব্যাধি মানুষের প্রকৃত অবস্থা পরিবর্তন করে দেয় এবং নষ্ট করে দেয়।

সুতরাং মুসলিম ব্যক্তির উচিত যে, সে যেন নিজের স্বাস্থ্য সঠিক পন্থায় রক্ষা করে এবং নিজের শরীরের সুস্থতা পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে; কেননা এই সব কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে মানুষ নিজের অধিকারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করতে এবং দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম হয়ে পড়ে।

শুধা তা-ই নয়, মানুষের স্বাস্থ্য সঠিক পন্থায় রক্ষা করার কতকগুলো উপাদান রয়েছে। সেই উপাদানগুলো হলো প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহর প্রদত্ত নিয়ম বা কানুন ও বিধিব্যবস্থা। মানুষের স্বাস্থ্য সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামতও বটে। মানুষ যেন তার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর বশ্যতা ও দাসত্ব স্বীকার করে এবং স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য মহান আল্লাহ যে সব নিয়ম-কানুন ও বিধিব্যবস্থা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সেসব নিয়ম-কানুন ও বিধিব্যবস্থায় নিজের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য মেনে চলা আল্লাহর বশ্যতা ও দাসত্ব স্বীকার করার নিদর্শন।

তাই দোয়াটি মুসলিম উম্মাহর জন্য খুবই জরুরি। যে কোনো রোগ-ব্যাধি ও কঠিন পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহর কাছে এ দোয়ার মাধ্যমে ধরণা দেওয়ায় মিলবে নাজাত মুক্তি।

আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার সব কঠিন রোগ-ব্যাধি ও পরিস্থিতিতে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনার তাওফিক দান করুন। আমিন।