প্রতিশোধের অন্তর্নিহিত তাগিদকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুনকোরবানিদাতার জন্য যেসব কাজ নিষিদ্ধনামাজ শেষে সালাম ফেরানোর পর জিকির ও দোয়াহজে সাফা-মারওয়া ‘সায়ী’র নিয়মবন্যার্তদের সেবায় ইসলামের নির্দেশনা
No icon

স্বাভাবিক কাজেও মেলে সাদকার সওয়াব

আল্লাহ তাআলা মানুষকে তাঁর দেওয়া সম্পদ থেকে তাঁরই পথে খরচের তাগিদ দিয়েছেন। যার বিনিময়ে রয়েছে সওয়াব। আবার আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি, তাসবিহ-তাহলিলেও রয়েছে সওয়াব। আবার প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজেও রয়েছে সাদকার সওয়াব। অনেকেই স্বাভাবিক এ কাজগুলোকে সওয়াবের বিষয় মনে করে না। সাদকার সওয়াব পাওয়ার স্বাভাবিক কাজগুলো কী?

যাদের অর্থ-সম্পদ নেই, তাদের জন্যও রয়েছে সাদকা আদায়ের ব্যবস্থা। হাদিসে পাকে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বাভাবিক কাজের সেসব সাদকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তাহলো-

হজরত আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করলেন, প্রতিদিন মানুষের ওপর নিজের জন্য সাদকা করা আবশ্যক। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কোথা থেকে সাদকা আদায় করবো, আমাদের তো সম্পদ নেই।

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই সাদকা রয়েছে-

১. তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলায়;

২. সুবহানাল্লাহ বলায়;

৩. আলহামদুলিল্লাহ বলায়;

৪. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলায়;

৫. আসতাগফিরুল্লাহ বলায়।

৬. সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করায়ও রয়েছে সাদকা।

রাস্তাঘাটে চলা ফেরায় প্রতিদিনই মানুষ অনেক কিছু সম্মুখীন হয়; আর এ কাজগুলো সুন্দরভাবে আদায় করায়ও মেলে সাদকার সওয়াব। যা অনেকে চিন্তাও করে না। মনের অজান্তে যেসব কাজে মানুষ স্বাভাবিকভাবে সাদকার সওয়াব পায় এরকম কিছু কাজ হলো-

৭. রাস্তা থেকে কাঁটা সরিয়ে দেওয়া।

৮. হাড় বা হাড্ডি কিংবা কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে দেওয়া।

৯. পাথর সরিয়ে দেয়ায়ও রয়েছে সাদকার সওয়াব। এছাড়া আরো কিছু স্বাভাবিক কাজ রয়েছে যেগুলোতে মেলে সাদকার সওয়াব। তাহলো-

১০. কোনো অন্ধকে রাস্তা দেখিয়ে দেওয়ায়।

১১. কানে শুনে না এমন বধির ও কথা বলতে পারে না এমন বোবাকে কথা বুঝিয়ে দেওয়ায়ও রয়েছে সাদকার সওয়াব।

১২. আবার কোনো প্রয়োজনে কাউকে কাঙ্খিত বিষয় সম্পর্কে তথ্য দেওয়াও সাদকা।

১৩. দুঃখী বা ফরিয়াদি ব্যক্তির জন্য কষ্ট বা মেহনত করে জীবিক উপার্জন করাও সাদকা। আবার

১৪. দুর্বল ব্যক্তিকে যে কোনো সহায়তায় রয়েছে সাদকার সওয়াব।

এসব কাজেই প্রত্যেকের পক্ষ থেকে শরীরের হক আদায় হয়ে যাবে। এর বিপরীতে সে পাবে সুস্বাস্থ্য এবং সাদকার বিশাল সওয়াব।

সুতরং মমিন মুসলমানের উচিত, উল্লেখিত স্বাভাবিক কাজগুলো সুন্দর ও উত্তমভাবে সম্পাদন করে শরীর-স্বাস্থ্যে হক আদায়সহ অনেক বেশি সাদকার সওয়াব পাওয়ার চেষ্টা করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে উল্লেখিত কাজগুলোর মাধ্যমে শরীরের হক আদায়সহ সাদকার সওয়াব পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।