পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা আজকোরআনের আলোকে মুমিনের কান্না ও মুক্তিরোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার প্রতিদানসুরা ইখলাস ১০ বার পড়ার ফজিলতযে আমলে মনবাসনা পূরণর হয়
No icon

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে হিজরি দ্বিতীয় সনের সতেরোই রমজান মদিনা থেকে প্রায় ৭০ মাইল দূরে বদর প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের লড়াই বদরযুদ্ধ ।তাওহিদ-একত্ববাদের বার্তাবাহী প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নিয়ে আসা ধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধবাদী বিশাল সৈন্য সামন্তের মোকাবিলায় ইমানদার বান্দাদের ছোট একটি দলের শশস্ত্র সংগ্রাম ছিল এটি। এক পক্ষ অর্থাৎ আল্লাহর নবির (সা.) সঙ্গে মাত্র ৩১৩ জন প্রায় নিরস্ত্র মুজাহিদ।অপরপক্ষে অবিশ্বাসীদের নেতা আবু জেহেলের নেতৃত্বে ছিল এক হাজার প্রশিক্ষিত সৈন্যের সুসজ্জিত বাহিনী। এ যুদ্ধে মানুষের ধারণাপ্রসূত সব রকমের চিন্তা ও উপলব্ধির বাইরে গিয়ে আল্লাহতায়ালা অস্ত্র-শস্ত্রহীন ইমানদারদের অতিক্ষুদ্র দলটিকে বিজয় দান করেন।সেদিন বদরের প্রান্তরে ইমান ও কুফর, ন্যায় ও অন্যায়ের এক অন্যরকম ইতিহাস রচিত হয় যা যুগ যুগ পর্যন্ত এক আল্লাহতে বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। মুসলমানরা বিশ্বাস করেন জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে। সম্মান অপমান আল্লাহর হাতে।

এ বিশ্বাস ও চেতনা লালন করে পৃথিবীর যে প্রান্তে যখনই মুসলমানরা অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন তারা সংখ্যায় বা সম্পদে কম হলেও আল্লাহ তাদের বিজয় দান করেছেন।পক্ষান্তরে আল্লাহর ওপর ভরসাহীন অঢেল সম্পদ ও প্রচুর সৈন্য সামন্তের বহরে সুসজ্জিত মুসলমানদের পরাজয়ের বর্ণনায় ইতিহাসের পাতা ভরপুর হয়ে আছে।বদরের যুদ্ধ শুরুর আগে আল্লাহর নবি (সা.) দোয়া করেছিলেন, হে আল্লাহ, তুমি যদি চাও দুনিয়াতে তোমার ইবাদত করার কেউ না থাকুক, তাহলে এই ক্ষুদ্র দলটিকে নিশ্চিহ্ন হতে দাও। আল্লাহতায়ালা রাসূলে কারিম (সা.) এর দোয়া কবুল করেছিলেন। কুরাইশদের অহমিকা ও দম্ভ ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন বাহ্যিক উপায় উপকরণের তুচ্ছতা। তাই নিরস্ত্র মুষ্টিময় মুজাহিদের কাছে পরাজিত হয় সুসজ্জিত বিশাল বাহিনী। তাদের পক্ষে নিহত হলো ৭০ জন। বন্দি হয় আরও ৭০ জন। আর মুসলমানদের মধ্যে শহিদ হন মাত্র চৌদ্দজন।যুদ্ধের এ ধরনের ফলাফল ছিল সম্পূর্ণ অভাবনীয়। কিন্তু তা ছিল আল্লাহর কুদরতের প্রমাণ। তিনি স্বল্পসংখ্যক মানুষকে বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে জয়ী করে দেখিয়ে দিলেন অবিশ্বাসী লোকদের প্রকৃত দুর্বলতা ও অসহায়তা। তাই বদরের যুদ্ধ ইমানদারদের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ।