→ রিজিক বৃদ্ধির শ্রেষ্ঠ আমল→ নখ কাটার পর অজু না করে নামাজ পড়া যাবে?→ মাটির নিচে আল্লাহর সৃষ্টির বিস্ময়→ বাংলাদেশিদের জন্য সউদীর নতুন প্যাকেজ ভিসা চালু→ অবশেষে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইরানের নিহত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
No icon

যেভাবে মসজিদুল হারামে চালু হয়েছিল এক ইমামের পেছনে একক জামাত

মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম একই সময়ে কেবল একজন ইমামের পেছনে জামাতে সালাত আদায়ের ঐতিহাসিক ১০০ বছর পূর্ণ করল। জেনে নিন, কীভাবে ১৯২৬ সালে বাদশাহ আবদুল আজিজ আলাদা চার মাযহাবের পৃথক জামাতের প্রথার অবসান ঘটিয়ে মসজিদুল হারামে একক জামাতের ঐতিহ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বহু শতাব্দী ধরে মক্কার পবিত্র মসজিদ আল হারামে চার মাযহাবের অনুসরণে চারটি পৃথক স্থান থেকে সালাত আদায় করা হতো। একেক মাযহাবের অনুসারীরা নিজস্ব ইমামের পেছনে একের পর এক সালাত আদায় করতেন। সাধারণত প্রথমে শাফেঈ মাযহাবের অনুসারীরা সালাত আদায় করতেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে হানাফী, মালেকী এবং হাম্বলী মাযহাবের জামাত অনুষ্ঠিত হতো। এর ফলে একই সালাতের জন্য মসজিদুল হারামের ভেতরে দিনে একাধিকবার জামাত হতো। 

পৃথক জামাতের এই প্রথা শতাব্দীকাল ধরে চলে আসছিল। হিজরী পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতক থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন শাসনামল পেরিয়ে বিংশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চালু ছিল। তৎকালীন ভ্রমণকারী এবং ইতিহাসবিদদের বর্ণনায় দেখা যায়, কীভাবে প্রতিটি মাযহাবের মুসল্লিরা তাদের নির্ধারিত জায়গায় সমবেত হতেন এবং আলাদাভাবে সালাত আদায় করতেন। 

১৯২৬ সালের ২৭ অক্টোবর বাদশাহ আবদুল আজিজ এই পৃথক প্রথা বন্ধ করার নির্দেশ দেন। হিজাজ ও নজদের প্রখ্যাত আলেমদের সঙ্গে আলোচনার পর সবাইকে একক একজন ইমামের পেছনে একত্রিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মাধ্যমে আলাদা সালাতের স্থানগুলো তুলে দেওয়া হয় এবং বারবার জামাত অনুষ্ঠানের প্রথার চির অবসান ঘটে। সেই থেকে মসজিদুল হারামে প্রতিটি ওয়াক্তের সালাতের জন্য কেবল একটিই জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে হারামে কোনো পৃথক জামাত বা আলাদা অংশ অবশিষ্ট নেই। একজন ইমামই এক সময়ে সকল মুসল্লিকে নিয়ে সালাতের ইমামতি করেন এবং সবাই একই সারিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ান। যদিও একাধিক যোগ্য ইমাম পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন, তবে এক ওয়াক্তের সালাতের জন্য কখনোই একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয় না।

এই একক জামাতের প্রথা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর সাহাবীদের আমলের সালাত আদায়ের পদ্ধতির সাথে হুবহু মিলে যায়। ইসলামের সূচনালগ্নে কেবল একজন ইমামের পেছনেই সবাই একসাথে সালাত আদায় করতেন।

১৯২৬ সালের সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত শতাব্দীকালের বিভাজনের অবসান ঘটিয়ে সেই মূল ও সুন্নাহসম্মত প্রথাকেই পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিল। গত ১০০ বছর ধরে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই এই একই ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে আসছে। আজ বিশ্বজুড়ে আসা কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান মসজিদুল হারামে এক ও অভিন্ন জামাতে একত্র হয়ে সালাত আদায় করেন।

মসজিদুল হারামের শুরুর দিকের সউদী শাসনামলে গৃহীত অন্যতম স্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার হিসেবে আজ আজও উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে এই একটি মাত্র জামাতের প্রবর্তন।
সূত্রঃ দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন