কোরআনের চর্চা অব্যাহত রাখা আবশ্যকশাওয়ালের ছয় রোজার ফজিলতসৌদিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল ফিতরবৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল ফিতরপবিত্র কাবা শরীফ থেকে তিন কিলোমিটার দূর গেলো তারাবির নামাজের কাতার
No icon

নারীর তালাক নেওয়ার বৈধ উপায় কী?

ন্যায়সঙ্গত কারণে তালাক ইসলামে বৈধ। তবে এটি সবচেয়ে নিকৃষ্ট বৈধ কাজ। নারীরাও বৈধ উপায়ে এ তালাক নেওয়ার অধিকার রাখে। নারীরা যথাযথ কারণে স্বামী থেকে আলাদা হওয়ার দুইটি বৈধ উপায় আছে। নারীদের তালাক নেওয়ার কারণ দুইটি কী?

দাম্পত্য জীবনে অশান্তির কারণেই স্বামী-স্ত্রীর পরস্পর আলাদা হয়। তালাকের মাধ্যমে এ সম্পর্কের অবসান ঘটে। তবে নারীর বৈধ দুইটি কারণে স্বামীর কাছ থেকে তালাক নিতে পারে। তাহলো-

১. স্ত্রীকে দীর্ঘদিন দাম্পত্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা

বিবাহিত পুরুষদের অনেকে দীর্ঘদিন স্ত্রীকে একসঙ্গে থাকার দাম্পত্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। ইচ্ছা-অনিচ্ছায় অনেকে বছরের পর বছর দূর প্রবাসে জীবন কাটিয়ে দেয়। অনেক নারীই পারিবারিক নানা কারণে স্বামীকে ফিরে আসার দাবী করতে পারে না।অনেক সময় দেখা যায়, স্বামী কাছে না থাকার কারণে অন্য পুরুষের প্ররোচনায় কিংবা শয়তানের ধোকায় পড়ে পরকীয়াসহ অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ স্বামীর পরিশ্রমের অর্থ অবৈধ/অনৈতিক সম্পর্কের পেছনে খরচ করে থাকে।

অথচ ইসলাম নারীকে তার ইজ্জত রক্ষায়, দাম্পত্য জীবনের শান্তি ধরে রাখতে বৈধভাবে জীবন পরিচালনার পৃথক হওয়ার অধিকার দিয়েছে। এ পরিস্থিতে চাইলে সে স্বামীর কাছ থেকে বৈধভাবেই তালাক গ্রহণ করতে পারে। যার ফলে অবৈধ সম্পর্কে খারাপ পরিণতি ও গোনাহ কিংবা দাম্পত্য জীবনের কষ্ট থেকেও মুক্তি পেতে পারে।

তাই দীর্ঘদিন দাম্পত্য অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকা নারীর জন্য রয়েছে কিছু করণীয়। যারা ধৈর্যধারণ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে অবৈধ সম্পর্কের দিকে পড়ে পরকালকে ধ্বংস করে দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাদের জন্য তালাক নেওয়ার আগে এ পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা একান্ত জরুরি। তাহলো-

যদি তাদের স্বামী ফিরে না আসে এবং এ কারণে সে ধৈর্যধারণ করা সম্ভব না হয়; তবে স্বামীর কাছে তালাক চাওয়া। এতে ওই নারীর স্বামী ঘরে ফিরে আসার বিষয়টির গুরুত্বসহ বুঝতে পারবে।

স্বামী যদি ফিরে না আসে এবং তালাক দিতে রাজী না হয় তাহলে মুসলিম পারিবারিক আইন-এর আওতায় কাজীর মাধ্যমে খুলা (তালাক) করে পৃথক হয়ে যাওয়া।

 

এ প্রসঙ্গে ফতোয়া

বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার শায়খ সালিহ আল-ফাউজান হাফিজাহুল্লাহ তার এক ফতোয়ায় উল্লেখ করেছেন, যদি কোনো স্বামী তার স্ত্রী থেকে ছয় মাসের বেশি দূরে থাকে আর তার স্ত্রী তাকে ঘরে ফেরার জন্য অনুরোধ করে; তাহলে তার জন্য ঘরে ফিরে আসা বাধ্যতামূলক।

স্বামী যদি এমন কারণে সফরে থাকে যা তার জন্য ফরজ; যেমন- ফরজ হজ পালন বা বাধ্যতামূলক জেহাদে যোগদান, কিংবা (কোনো কারণে) তার জন্য ঘরে ফিরে আসা সম্ভব না হয়, তবে সেক্ষেত্রে (স্বামীর জন্য) ঘরে ফিরে আসা আবশ্যক নয়।

যদি বৈধ কোনো কারণ ছাড়া স্বামী ঘরে ফিরে আসতে অস্বীকার করে আর তার স্ত্রী খুলা (তালাক) দাবি করে, তবে কাজী/বিচারক স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তাদেরকে পৃথক করে দেবে। কারণ এই ব্যক্তি (স্বামী) তার স্ত্রীকে অত্যাবশ্যকীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। (আল-মুলাখ-খাস আল-ফিকহি ২/২৯০)

২. স্বামী তার স্ত্রীর জৈবিক চাহিদ পূরণে অক্ষম

যদি কোনো স্বামী তার স্ত্রীর জৈবিক চাহিদা পূরণে অক্ষম হয় কিংবা যৌন দুর্বলতার কারণে স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হয় আর এ কারণে স্ত্রীও ধৈর্য ধারণ করতে না পারে তবে করণীয় হলো-

স্ত্রী তার স্বামীকে এক বছর পর্যন্ত চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া। যদি চিকিৎসার পরেও স্বামীর অবস্থার পরিবর্তন না হয়; যৌন রোগ থেকে সুস্থ না হয় তবে সেক্ষেত্রে স্ত্রী চিন্তা-বিবেচনা করবে যে, সে এমন বিবাহে আবদ্ধ থাকবে কিনা।

এ পরিপ্রেক্ষিতে স্বামীর সঙ্গে সংসার করা কল্যাণকর নাকি পৃথক হওয়া আবশ্যক বিষয়টি স্ত্রীর উপর নির্ভর করবে। এ অবস্থায় নারী যদি ধৈর্য ধারণ করতে না পারে, চাইলে সে নারী তার স্বামী বা পরিবারের সঙ্গে আলোচনার করে কাজীর মাধ্যমে খুলা (তালাক) নিতে পারবে। এ অবস্থার শিকার সব নারীর জন্য তা বৈধ।

<এ ছাড়াও আরও কিছু কারণে আছে- স্ত্রীর ভরণ-পোষণ দিতে অক্ষম হলে।

স্ত্রী ছাড়া অন্য নারীর প্রতি আসক্ত হয় তথা পরকীয়া, পাপাচারিতা কিংবা চারিত্রিক অন্যায়-অপকর্মে লিপ্ত হয়।

< বৈধ যে কোনো কারণে স্বামীর প্রতি মনে প্রচণ্ড ঘৃণা সৃষ্টি হলে।

স্বামী দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে বা কোথাও বন্দি থাকার ফলে স্ত্রী যদি নিরাপত্তাহীনতা কিংবা ক্ষয়-ক্ষতির আশংকা করে।

ইসলামি শরিয়ত নির্দেশিত কারণ ছাড়া স্বামী যদি স্ত্রীকে শারীরিক আঘাত, অত্যাচার, অপমান কিংবা অভিশাপ ও গালাগালি দেয়।

স্বামীর কোনো দুরারোগ্য বা সংক্রমক ব্যাধিতে স্ত্রী আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকলে।

স্ত্রীকে যদি নির্বাসিত জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হতে বাধ্য করে। অথ্যাৎ স্ত্রীর বাবা-মা, ভাই-বোনসহ মাহরামদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতে বাধা দেয়।

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতসহ ইসলামের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে কটুক্তি করার পাশাপাশি স্ত্রীকে ইসলামের বিধান পালনে বাধা দেয় কিংবা স্ত্রীকে কটুক্তি করে।