বিনয় ও মহানুভবতার অনন্য দৃষ্টান্তসন্তান যখন পরীক্ষার কারণ হয়মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে যে ৬ কাজ দ্রুত করা জরুরিটাখনুর নিচে কাপড় পরা হারাম, কবিরা গুনাহ!এতিমের সম্পদ খাওয়া কবিরা গুনাহ!
No icon

নামাজি ছাড়া আর কেউ পাবে না যে বিশেষ মর্যাদা!

আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সুসম্পর্ক ও সেতুবন্ধন তৈরির সেরা মাধ্যম নামাজ। কোরআন-সুন্নায় নামাজের ফজিলত, উপকারিতা ও মর্যাদা তুলে ধরে নামাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। একনিষ্ঠতার সঙ্গে নামাজ আদায়কারীর জন্য রয়েছে সুসংবাদ ও বিশেষ মর্যাদা। যা অন্য কেউ পাবে না। সেই সুসংবাদ ও মর্যাদাগুলো কী?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের মধ্যে যারা নামাজে একনিষ্ঠ তাদের জন্য অনেকগুলো বিশেষ মর্যাদা ও সুসংবাদ ঘোষণা করেছেন। তাহলো-
হাদিসের মাধ্যমে উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য যেসব পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন, তাহলো-


১. ফজর পড়লেই নিরাপত্তার সুসংবাদ হজরত জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ফাজরের নামাজ পড়ল সে মহান আল্লাহর জিম্মাদারি তথা রক্ষণাবেক্ষণের অন্তর্ভুক্ত হলো। আর আল্লাহ তোমাদের কারো কাছে তাঁর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা দেওয়ার বিনিময়ে কোনো অধিকার দাবি করেন না। যদি করেন- তাহলে তাকে এমনভাবে পাকড়াও করবেন যে, উল্টিয়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন।& (মুসলিম)

২. ফজর ও আসরে জাহান্নাম থেকে মুক্তি হজরত আবু বকর ইবনু ওমারাহ ইবনু রুআইবাহ তার পিতা রুআইবাহ থেকে বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, এমন কোনো ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে না, যে সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের আগের নামাজ (ফজর ও আসর) নামাজ আদায় করেন। এ কথা শুনে বসরার অধিবাসী এক লোক তাকে জিজ্ঞাসা করলো, তুমি কি নিজে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে থেকে এ কথা শুনেছ? সে বলল, হ্যাঁ। তখন লোকটি বলে উঠল- আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি নিজেও এ হাদিসটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে শুনেছি। আমার দুই কান তা শুনেছে আর মন তা স্মরণ রেখেছে। (মুসলিম)

৩. রাতের নামাজে আলোর সুসংবাদ হজরত আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রাতের অন্ধকারে মসজিদসমুহে (নামাজের জন্য) যাতায়াতকারীদের কেয়ামাতের দিনের পরিপূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও। (ইবনে মাজাহ) অর্থাৎ রাতের অন্ধকারে নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির জন্য কেয়ামতের ময়দানের কঠিন অন্ধকারে আলোর সুসংবাদ দিয়েছেন বিশ্বনবি।

৪. ইশার নামাজে অর্ধেক রাত ইবাদতের সাওয়াব হজরত আবদুর রহ্মান ইবনু আবু আমরাহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, একদিন মাগরিবের নামাজের পর হজরত উসমান ইবনু আফ্‌ফান রাদিয়াল্লাহু আনহু মাসজিদে এসে একাকি এক জায়গায় বসলেন। তখন আমি তার কাছে গিয়ে বসলাম। তিনি আমাকে বললেন-
ভাতিজা! আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জামাআতের সঙ্গে ইশার নামাজ আদায় করল সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত সলাত আদায় করল। আর যে ব্যক্তি জামাআতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করল সে যেন সারারাত জেগে নামাজ আদায় করল। (মুসলিম)

৫. ;ফজর ও ইশা মুনাফেকি থেকে মুক্তির সুসংবাদ হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুনাফিকদের জন্য ফজর ও ইশার নামাজ অপেক্ষা অধিক ভারী (কষ্টের) নামাজ আর নেই। এ দুই নামাজের কী ফজিলত, তা যদি তারা জানতো, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হতো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি ইচ্ছে করেছিলাম যে, মুয়াজ্জিনকে ইক্বামাত দিতে বলি এবং কাউকে লোকদের ইমামতি করতে বলি, আর আমি নিজে একটি আগুনের মশাল নিয়ে গিয়ে এরপর যারা নামাজে আসেনি, তাদের উপর আগুন ধরিয়ে দেই। (বুখারি)