ইসলামি শরিয়তের মূল নীতি অনুযায়ী, নারীদের গাড়ি চালানো বা ড্রাইভ করা জায়েজ। শরিয়তের নির্ধারিত বিধিমালা ও শালীনতা রক্ষা করা হলে নারীর গাড়ি চালাতে কোনো বাধা নেই।ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে নারীদের বাহন চালনার সুনির্দিষ্ট নজির রয়েছে। রাসুলুল্লাহর (সা.) স্ত্রীগণ এবং নারী সাহাবিগণও উট চালিয়েছেন। উটের পিঠে চড়ে সফর ও যাতায়াত করেছেন। এ প্রসঙ্গে সহিহ হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, উষ্ট্রারোহী নারীদের মধ্যে কোরায়শের নেক নারীগণই সর্বোত্তম। তারা সন্তানের প্রতি শৈশবে খুব স্নেহশীল, স্বামীর সম্পদের উত্তম হেফাজতকারী। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
যেহেতু নারীদের বাহন হিসেবে উট বা ঘোড়া চালনার অনুমতি ছিল এবং তাতে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না, তাই যুগের বিবর্তনে যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে গাড়ি চালনাও শরিয়তের এই মূলনীতির আওতাভুক্ত। সমসাময়িক কিছু আলেম বর্তমান পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ী নারীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় যে সতর্কতা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাকেন, তা মূলত বিশেষ প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সম্পর্কিত, সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
গাড়ি চালাতে গিয়ে যেন শরিয়তের বিধান লঙ্ঘিত না হয়
নারীর গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধানগুলো যেন লঙ্ঘিত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে:
১. পর্দা ও শালীনতা রক্ষা
গাড়ি চালানোর সময় হিজাব ও পর্দার বিধান মেনে চলতে হবে। অশালীন পোশাক পরিধান করে গাড়ি চালানো যাবে না।
২. গায়রে মাহরামের সঙ্গে নির্জনতা বর্জন
গাড়িতে কোনো গায়রে মাহরামের (যাদের সাথে বিবাহ বৈধ) সঙ্গে যেন নির্জন অবস্থান তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৩. দূরপাল্লার সফরে মাহরামের উপস্থিতি
দৈনন্দিন সাধারণ যাতায়াতের ক্ষেত্রে শহর বা লোকালয়ের ভেতরে একা গাড়ি চালানোয় কোনো বাধা নেই। তবে যাত্রাটি যদি ইসলামি শরিয়ত নির্ধারিত সফর -এর সীমানায় (প্রায় ৭৭ কিলোমিটার বা ৪৮ মাইল) পৌঁছে যায়, তবে সাথে কোনো মাহরাম (যার সাথে স্থায়ীভাবে বিবাহ হারাম, যেমন বাবা, ভাই, স্বামী, ছেলে) অভিভাবক থাকতে হবে। মাহরাম ছাড়া একা ড্রাইভ করে দূরপাল্লার সফর করা ইসলাম অনুমোদন করে না।
