→ রিজিক বৃদ্ধির শ্রেষ্ঠ আমল→ নখ কাটার পর অজু না করে নামাজ পড়া যাবে?→ মাটির নিচে আল্লাহর সৃষ্টির বিস্ময়→ বাংলাদেশিদের জন্য সউদীর নতুন প্যাকেজ ভিসা চালু→ অবশেষে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইরানের নিহত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
No icon

রিজিক বৃদ্ধির অনন্য দোয়া

নবীজি (সা.) থেকে বর্ণিত রিজিক বৃদ্ধির অনন্য দোয়া: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، وَوَسِّعْ لِي فِي دَارِي، وَبَارِكْ لِي فِي رِزْقِي উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লি যাম্বি, ওয়া ওয়াস্তি লি ফী দারী, ওয়া বারিক লি ফী রিযকী।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন, আমার ঘর প্রশস্ত করে দিন এবং আমার রিজিকে বরকত দান করুন।

যে হাদিসে দোয়াটি বর্ণিত হয়েছে

আবু মুসা আশআরী (রা.) বলেন, একদিন আমি নবীজিকে (সা.) অজুর পানি এনে দিলাম। তিনি অজু করলেন। তারপর আমি শুনলাম তিনি দোয়া করছেন: আল্লাহুম্মাগফির লি যাম্বি, ওয়া ওয়াস্তি লি ফী দারী, ওয়া বারিক লি ফী রিযকী। আমি বললাম হে আল্লাহর নবী! আমি শুনলাম আপনি এই এই দোয়া করেছেন। নবীজি (সা.) বললেন, এই দোয়া থেকে কিছু বাদ পড়েছে? (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা)

অর্থ ও তাৎপর্য

এই সংক্ষিপ্ত দোয়াটি অত্যন্ত ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী অর্থ বহন করে। দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় কল্যাণ যেন এই একটিমাত্র দোয়ার মাঝে নিহিত রয়েছে। এই দোয়ার অনন্য বৈশিষ্ট্য ও গভীরতা সম্পর্কে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন যে, এই দোয়ায় বান্দার দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণমূলক কোনো প্রার্থনাই বাদ যায়নি। নিচে দোয়াটির প্রতিটি অংশের চমৎকার ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো:

১. গুনাহ ক্ষমা

দোয়ার প্রথম অংশে বান্দা মহান আল্লাহর দরবারে তার সমস্ত পাপ ও ত্রুটি মোচনের আকুতি জানায়। কারণ, পাপের কালিমা যখন মানুষের জীবনে স্তূপীকৃত হতে থাকে, তখন তা ধীরে ধীরে মানুষের কোমল অন্তরকে কঠিন পাথরে পরিণত করে তোলে। এটি মানুষের বর্তমান জীবন ও চূড়ান্ত পরিণামকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তার ঠিকানা করে দেয় ধ্বংসের ঘর জাহান্নাম। তাই পার্থিব কোনো প্রশান্তি বা রিজিক চাওয়ার আগে নিজের আত্মাকে পাপমুক্ত ও পবিত্র করে নেওয়া মুমিনের কাছে সর্বাগ্রে কাম্য।

২. ঘরের প্রশস্ততা

দ্বিতীয় অংশে দুনিয়ার আবাসস্থলকে প্রশস্ত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার প্রার্থনা করা হয়েছে। কেননা, সংকীর্ণ বাসস্থান, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব কিংবা অস্বস্তিকর পরিবেশ মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ তৈরি করে, মনকে বিষণ্ন করে তোলে এবং অনর্থক পেরেশানি বাড়ায়। এর পাশাপাশি, এই প্রার্থনার অন্তর্নিহিত আরেকটি অর্থ হলো পরকালের প্রথম ঠিকানা কবর প্রশস্ত হওয়া তা যেন জান্নাতের সুশীতল বাগিচায় পরিণত হয়। পরকালের পরবর্তী ঠিকানাও যেন আল্লাহ তাআলা প্রশস্ত করেন অর্থাৎ জান্নাত দান করেন। এর মাধ্যমে মুমিন ব্যক্তি একই সাথে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানের আবাসস্থলেই স্বস্তি ও প্রশান্তি কামনা করেন।

৩. রিজিকে বরকত

দোয়ার শেষাংশে বান্দা তার উপার্জনে বরকতের প্রার্থনা জানায়। এর অর্থ কেবল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকার অঙ্ক বা পার্থিব সম্পদের পাহাড় জমে যাওয়া নয়; বরং এর প্রকৃত তাৎপর্য হলো, রিজিককে সম্পূর্ণ হালাল ও পবিত্র করা এবং তাতে কল্যাণকর প্রবৃদ্ধি দান করা। অল্প হলেও সেই হালাল রিজিকের ওপর যেন মন সবসময় তৃপ্ত থাকে, অবৈধ কোনো সম্পদের প্রতি যেন বিন্দুমাত্র লোভ না জন্মায় এবং বান্দা যেন সব সময় সন্তুষ্টচিত্তে জীবনযাপন করতে পারে।