ইসলামে উপুড় হয়ে শোয়া নাজায়েজ বা গুনাহের কাজ নয়, তবে এটি মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। রাসুল (সা.) উপুড় হয়ে শুতে নিষেধ করেছেন। এ ব্যাপারে কয়েকটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে:
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) জনৈক ব্যক্তিকে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে দেখে বললেন, এ ধরনের শোয়া আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন না। (সুনানে তিরমিজি: ২৭৬৮)
তিহফাহ আল-গিফারী (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন আমাকে মসজিদের মধ্যে উপুড় হয়ে শুতে দেখে পা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বললেন, তুমি এভাবে ঘুমাচ্ছ কেন? এমন ঘুম তো আল্লাহ্ তা আলা পছন্দ করেন না। (সুনানে ইবনে মাজা: ৩৭৯১)
আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদিন রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন আমি উপুড় হয়ে ঘুমাচ্ছিলাম। তখন তিনি আমাকে পা দিকে ধাক্কা দিয়ে বললেন, হে জুনাইদিব! এই শোয়া তো জাহান্নামীদের শোয়া। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৭৯২)
উপুড় হয়ে শোয়া কেন অপন্দনীয়?
উপুড় হয়ে শোয়া অপছন্দনীয় হওয়ার কারণ সম্পর্কে শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ.) বলেন, শোয়ার এই ধরন দৃষ্টিকটু ও কুৎসিত। এ কারণেই এভাবে শুতে নিষেধ করা হয়েছে। (হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ: ২/৩০৮)
মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থের ব্যাখ্যাকার মোল্লা আলী কারী (রহ.) বলেন, সিজদা ছাড়া সাধারণ অবস্থায় শরীরের সবচেয়ে সম্মানিত অঙ্গ বুক ও মুখমণ্ডলের ওপর উপুড় হলে সেগুলোর অসম্মান করা হয়। অথবা উপুড় হয়ে শোয়া সমকামিতায় লিপ্ত ব্যক্তির শোয়ার ভঙ্গির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর তাদের সঙ্গে সাদৃশ্য রাখা নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। (মিরকাতুল মাফাতিহ: ৭/২৯৮০)
উপুড় হয়ে শোয়ার স্বাস্থ্যগত ক্ষতি
এ ছাড়া উপুড় হয়ে শোয়া বা ঘুমানো স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও ক্ষতিকর। এ কারণেও নবীজি (সা.) উপুড় হয়ে শুতে নিষেধ করে থাকতে পারেন।বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিত যদি কেউ উপুড় হয়ে ঘুমায়, তাহলে তার ফুসফুস, অন্ত্র ও মেরুদণ্ডে অস্বাভাবিক চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে উপুড় হয়ে ঘুমানোর অভ্যাসের ফলে ঘাড়, পিঠ ও কোমরে ব্যথা হতে পারে। মুখের ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
