প্রতিদিন এক হাজার নেকি অর্জনের সহজ আমলনিজের মৃত্যু কামনা করা কি জায়েজ?ঋণ পরিশোধ না করে হজ করলে কি হজ হবে?নিজের গ্রামের বাড়িতে গেলে কি কসর পড়তে হবে?ঈদুল ফিতর: নতুন জীবনের উদ্বোধন
No icon

ইসলামের দৃষ্টিতে ফেক আইডি ব্যবহারের বিধান

বর্তমান যুগ তথ্য-প্রযুক্তির যুগ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি সৃষ্টি করেছে নানাবিধ নৈতিক ও ধর্মীয় চ্যালেঞ্জ।

ফেসবুক, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফরমে অনেকেই প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ভিন্ন পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে থাকেন। বিশেষ করে কোনো পুরুষ যদি নিজেকে নারী পরিচয়ে উপস্থাপন করেন বা নারীর নাম-পরিচয় ব্যবহার করেন, তবে তা শুধু একটি সাধারণ বিষয় নয়; বরং এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে সত্যবাদিতা, আমানতদারির শিক্ষা।

ইসলাম মানুষের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সত্য ও সততার শিক্ষা দেয়। একজন মুসলিমের পরিচয় হবে স্বচ্ছ, সত্যনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত।

তাই ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে বিপরীত লিঙ্গের পরিচয় গ্রহণ করা ইসলামী নৈতিকতার পরিপন্থী এবং অনেক ক্ষেত্রে তা ধোঁকা, প্রতারণা ও মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো।’(সুরা : তাওবা, আয়াত : ১১৯)

যখন কোনো পুরুষ ইচ্ছাকৃতভাবে নারীর নাম, ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করে, তখন সে মানুষের কাছে এমন একটি ধারণা সৃষ্টি করে যা বাস্তবতার বিপরীত। যদিও সে সরাসরি মুখে মিথ্যা না বলুক, তথাপি তার পরিচয়ই মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা মূর্তিপূজার অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকো এবং মিথ্যা কথা থেকে দূরে থাকো।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৩০)
মুফাসসিরা বলেন, মিথ্যা কথা বলতে প্রত্যেক ধরনের অসত্য, প্রতারণামূলক ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও আচরণকে বোঝায়।

পুরুষ হয়ে নারী পরিচয় ব্যবহার করার অন্যতম বড় সমস্যা হলো এতে অন্যদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়। মানুষ তাকে নারী মনে করে যোগাযোগ করে, অথচ বাস্তবে সে পুরুষ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০১)
এই হাদিসে প্রতারণার প্রতি অত্যন্ত কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে। কারণ প্রতারণা মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাসকে ধ্বংস করে দেয়।

মিথ্যাবাদীদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ
আল্লাহ তাআলা মিথ্যাবাদীদের প্রতি কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তাহলে আমি মিথ্যাবাদীদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ নিক্ষেপ করব।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৬১)
যদিও এই আয়াত একটি বিশেষ ঘটনার প্রসঙ্গে নাজিল হয়েছে, তবে এতে মিথ্যার ভয়াবহতা ও মিথ্যাবাদীদের প্রতি আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

বিপরীত লিঙ্গের সাদৃশ্য গ্রহণের নিষেধাজ্ঞা
ইসলামে পুরুষ ও নারীর স্বতন্ত্র পরিচয় সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ সেই পুরুষদের প্রতি অভিশাপ করেছেন যারা নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে এবং সেই নারীদের প্রতিও অভিশাপ করেছেন যারা পুরুষদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৮৮৫)
যদিও এই হাদিস মূলত পোশাক-পরিচ্ছদ ও বাহ্যিক সাদৃশ্যের ব্যাপারে এসেছে, তবুও এর দ্বারা বোঝা যায় যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিপরীত লিঙ্গের পরিচয় ধারণ করা ইসলামী আদর্শের পরিপন্থী।

অতএব, একজন মুসলিমের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট হলো তার সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও একজন মুমিনের চরিত্র হবে বাস্তবজীবনের মতোই স্বচ্ছ, সৎ ও প্রতারণামুক্ত। তাই কোনো পুরুষের জন্য নারীর পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা, নারীর নাম ব্যবহার করে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা এমন কোনো পরিচয় গ্রহণ করা যা মানুষকে বিভ্রান্ত করে— বৈধ নয়। কেননা এতে মিথ্যা, ধোঁকা ও বিশ্বাসভঙ্গের উপাদান বিদ্যমান থাকে, যা ইসলামে কঠোরভাবে নিন্দনীয়।